ন্যাটোকে পালটা হুঁশিয়ারি চীনের

আপডেট : ১৫ জুন ২০২১, ১৯:৪৭

 বিবিসি ও রয়টার্স

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গত সোমবার ন্যাটো সম্মেলনে বেইজিংয়ের সামরিক তত্পরতা নিয়ে চীনকে সতর্ক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ন্যাটোকে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। বেইজিংকে হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে ফাঁকা মাঠে অহেতুক উত্তেজনা না বাড়াতে চীন ন্যাটোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে শিনজিয়াংয়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি, হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন ও তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে জি-৭-এর নেতাদের দেওয়া বিবৃতির নিন্দা জানিয়েছে চীন।

ন্যাটোকে বেইজিংয়ের বিষয়ে আলোচনা বাদ দিয়ে নিজেদের মধ্যে আরো কার্যকর আলাপ করার তাগিদ দিয়েছে চীন। এক বিবৃতিতে চীন জানিয়েছে, ন্যাটোর উচিত বেইজিংয়ের সার্বিক উন্নয়নকে যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করা। একই সঙ্গে চীনের সার্বিক উন্নয়নে ন্যাটোকে ঈর্ষান্বিত না হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের চীনা মিশন জানিয়েছে, বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা ও সামরিক আধুনিকায়নের বিষয়টি পুরোপুরি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, চীনের প্রতিরক্ষানীতি স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত।

ব্রাসেলসে ন্যাটো সম্মেলনে শীর্ষ নেতারা চীনের সাম্প্রতিক সামরিক তত্পরতাকে সতর্ক করেছেন। নেতারা বলেন, চীন নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি ক্রমবর্ধমান হারে বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির সামরিক ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, যাকে সারা বিশ্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন তারা। সম্মেলনে ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টেলটেনবার্গ বলেন, চীনের সঙ্গে কোনো ধরনের স্নায়ুযুদ্ধে যেতে চায় না ন্যাটো।

এদিকে যুক্তরাজ্যে জি-৭ সম্মেলনে শিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুর নির্যাতন এবং হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থিদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের মতো নানা বিষয় নিয়ে জি-৭ নেতারা বেইজিংয়ের তুমুল সমালোচনাও করেন। এর পরই চীন এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। জি-৭-এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারসাজির অভিযোগও তুলেছে দেশটি। যুক্তরাজ্যে অবস্থিত চীনের দূতাবাস থেকে জি-৭ নেতাদের এই সব অভিযোগই ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করা হয়েছে। সোমবার এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘চীনকে অপবাদ দেওয়া বন্ধ করুন। চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। চীনের স্বার্থের ক্ষতি করা বন্ধ করুন।’

শিনজিয়াংয়ের বাসিন্দাদের মানবাধিকারকে সম্মান করা, হংকংয়ের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা এবং পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো কাজ করা থেকে চীনকে বিরত থাকার আহ্বান ঘোষণাপত্রে জানিয়েছিলেন জি-৭ নেতারা। তা ছাড়া ‘তাইওয়ান প্রণালির চারপাশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বও উঠে এসেছে নেতাদের আলোচনায়। একই সঙ্গে চীনে করোনা ভাইরাসের উত্স সন্ধানে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তও এবারের জি-৭ সম্মেলনে দাবি করেছেন নেতারা।