‘প্রতিভা না থাকলে টিকে থাকা সম্ভব নয়’

আপডেট : ১৫ জুন ২০২১, ২১:০৫

দুই বাংলার চলচ্চিত্রে সমানতালে কাজ করছেন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। হাতে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক’সহ বেশ কয়েকটি ছবির কাজ। নিজের সাম্প্রতিক ব্যস্ততাসহ সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাই—

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের কাজ করছি। এছাড়া কলকাতার ‘বিবাহ অভিযান’, ও ‘ভয়’ শিরোনামের দুটি ছবিসহ দেশের বেশকিছু ছবির কাজ হাতে রয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে সব শুটিং বন্ধ রয়েছে। তবে শিগগিরই হয়তো কাজ শুরু করতে পারবো। আপাতত বিজ্ঞাপনের শুটিং শুরু করেছি। পাশাপাশি ‘অপারেশন সুন্দরবন’ ও ‘পাতাল ঘর’ নামের দুটি চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে কাজ করছেন। ছবিটিতে অভিনয় ও শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে কাজের সুযোগ পাওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের একটি বিষয়। আমরা পরিবারের মতো করে কাজ করছি। আমরা শ্যাম বেনেগালের মতো এমন বিখ্যাত একজন মানুষের সঙ্গে কাজ করছি, সেটা তিনি কখনো বুঝতেই দেন না। আসলে গাছ যত বড় হয় তার ছায়াও তত বড় হয়, শ্যাম বেনেগাল সেটারই উদাহরণ।

উপস্থাপনা থেকে অভিনয়ে এসেছেন। এরপর উপস্থাপনায় অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। তাহলে কী নায়িকা হতেই উপস্থাপনায় এসেছিলেন?

না, বিষয়টি তেমন না। নায়িকা হওয়া আমার অনেক পরের পরিকল্পনা ছিল। উপস্থাপনাই আমার প্রথম টার্গেট ছিল। কিন্তু উপস্থাপনা করতে এসে অনেক ছবির প্রস্তাব পাই। যেটা আমার ভাগ্যে হয়তো ছিল। তবে এখনো কিন্তু মাঝে মাঝে উপস্থাপনা করছি।

পরীমনির বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। আপনি এ নিয়ে কী বলবেন?

পরীমনির সঙ্গে যে অন্যায়টা হয়েছে সেটা নিঃসন্দেহে অনেক খারাপ হয়েছে। এটা কখনোই কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনা যে কারো জন্যই দুঃখজনক। তবে দেশের সরকার, প্রশাসন, সাংবাদিকসহ মানুষ যেভাবে সোচ্চার হয়েছে, আশা করছি সঠিক বিচার সে পাবে। আমি তার পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।

জনশ্রুত আছে, ইন্ডাস্ট্রিতে স্বজনপোষণের একটা রীতি প্রচলিত আছে। এই চর্চা নতুনদের জন্য প্রতিবন্ধকতা নয় কী?

আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে স্বজনপ্রীতি নয়, একই ঘরানায় কাজের একটা প্রবণতা আছে। এটা থাকতেই পারে। তবে যেটাই থাকুক, প্রতিভা না থাকলে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

এক সময় একাধিক স্টার তৈরি হতো। কিন্তু এখন অনেকেই সাড়া জাগিয়ে আসেন, আবার দ্রুতই আড়ালে চলে যান। এর কারণ হিসেবে কী বলবেন?

এখানে মূল ভূমিকা পালন করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এখন আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেই কাউন্ট করি কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি, কার কম। কিন্তু আগে তো এই চর্চা ছিল না। ফলে দর্শক ১ মিনিটে স্টার বানিয়ে দিচ্ছে, আবার মিনিটেই ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। এছাড়া ভালো কাজের মূল্যায়ন বা যারা ভালো কাজ করতে চায় তাদের গুরুত্ব না দিয়ে সংখ্যার দিকে আমরা মনোযোগ বেশি দিচ্ছি।

ওটিটিতে চলচ্চিত্র মুক্তির চর্চা আমাদের দেশেও শুরু হয়েছে। মাধ্যমটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য কতটা ইতিবাচক বলে মনে করেন?

ওটিটি বিনোদনপ্রেমীদের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে এসেছে। শুধু অ্যাকশন ঘরানার ছবি নয়, যারা একটু ভিন্নধারা ছবি করতে চান তাদের জন্য এই মাধ্যমটি আশার আলো হয়ে এসেছে বলা চলে।

অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে ওটিটিতে কোন ধরনের কাজ রিলিজ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন?

একটি ছবি হলে রিলিজ হলে সেটা দেশের গণ্ডির ভেতরেই থাকে। কিন্তু ওটিটিতে রিলিজ হলে সেটা সারাবিশ্বের মানুষ দেখে। সেই চিন্তা থেকে অন্য দেশের কাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, মান ঠিক রেখে আমাদের নির্মাণ করতে হবে।

চলচ্চিত্র সংকটের জন্য অনেকেই মানহীন কাজ ও হল সংকটকে দায়ী করেন। আপনি কাকে দায়ী করবেন?

আমাদের প্রযোজক কমে যাচ্ছে, ভালো নির্মাতার অভাবও দিনদিন প্রকট হচ্ছে। আর ভালো ছবি নির্মিত না হলে তো হল বন্ধ হবেই। তবে সবাই মিলে কাজ করলে নিশ্চয় চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে।