পাহাড়ের আম বিপণন

আপডেট : ১৫ জুন ২০২১, ২১:২২

খাগড়াছড়ির এক সময়ের বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ অনাবাদি পাহাড়ি টিলা উপত্যকায় এখন সারি সারি আমবাগান। আম্রপালি, রুপালি, মল্লিকা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, মোহনভোগ প্রভৃতি জাতের আমের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় পাহাড়ে এবার ভালো ফলন হয়েছে। তবে আম বাজারে পৌঁছানো যায় কি না তা নিয়ে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় আছেন পাহাড়ের আমচাষিরা। আম পাকতে শুরু করেছে। তবে করোনা মহামারির কারণে বাজার ব্যবস্থাপনায় সংকট হলে কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের কপালে দুঃখ আছে। তাই আম যথাযথভাবে বাজারে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের সচেষ্ট হতে হবে।

একসময় সনাতন পদ্ধতিতে আম চাষে এখানে ফলন বেশি পাওয়া যেত না। পরবর্তীকালে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষাবাদ শুরু হলে ফলন বাড়ে। শত শত হেক্টর জমিতে চলছে আমের উত্পাদন। আমের পাশাপাশি আনারস, লেবু, লিচুসহ নানা ফলের ভাণ্ডার হয়ে উঠছে পাহাড়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে আম বিক্রির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা কতটুকু করা যাবে তা নিয়ে সংশয়ে সংশ্লি­ষ্টরা। বড় বড় বাগান কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা আছে এমন বাগান মালিক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ নিলেও ছোটখাটো চাষিরা আছেন শঙ্কায়। পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে পার্বত্যাঞ্চলের প্রায় সর্বত্র আম্রপালি, রাংগোয়াই (মিয়ানমারের জাত), থাই এবং স্থানীয় জাতের আমের ভালো ফলন হয়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে চাষিরা প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। পাহাড়ে হিমাগার নির্মাণের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। 

শ্যামল রুদ্র

খাগড়াছড়ি