সাইবার বুলিং

আপডেট : ১৫ জুন ২০২১, ২১:২৩

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে এখন সাইবার অপরাধ জটিল এক মনস্তাত্ত্বিক বিড়ম্বনা। এই বিড়ম্বনার শিকার বেশি হন নারী ও শিশুরা। ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, টুইটার, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদির মাধ্যমে তারা সাইবার অপরাধীদের শিকারে পরিণত হচ্ছে। ইন্টারনেটের এই যুগে কারো ব্যক্তিগত দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হেয়প্রতিপন্ন করা, ভয় দেখানো বা মানসিক নির্যাতন ও হুমকি এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের খপ্পরে পড়ছেন নির্দোষ আর নিরীহ মানুষগুলোই। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীসহ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ সাইবার বুলিংয়ের শিকার। যার মধ্যে তিন-চতুর্থাংশ হলেন নারীই। কেউ কেউ অনলাইনে নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করে অভিযোগ দায়ের করেন। বাকিরা ভয়ে থাকেন অভিযোগ করলেই তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে হবে ও সম্মানহানি ঘটতে পারে। শিকার হওয়া নারীদের মধ্যে প্রচণ্ড হতাশা, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, অনিদ্রা ইত্যাদি নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এমনকি আত্মহননের ঘটনাও ঘটতে পারে। চুপ থাকার নীতিই ক্ষতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা তাঁদের সমস্যাগুলো এখনো পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। পরিবারের কথা ভেবে কিংবা সম্মান হারানোর ভয়ে অনেকেই সব চুপ করে সয়ে যান কিংবা চেপে যান। অপরাধীরা এর ফলে আরো বেশি সুযোগ নেয়। তারা আর্থিক সুবিধা আদায় করতে করতে একসময় ভিকটিমকে যৌন নির্যাতনের ফাঁদেও ফেলে। তাই গণসচেতনতা তৈরি করা জরুরি।

ফরিদা ইয়াসমিন 

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়