নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা
হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
আজ বুধবার নারায়ণগঞ্জ ট্র্যাজেডি দিবস। ২০০১ সালের এই দিনে চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছিল। আর সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন। গত ২০ বছরে বিচার না পাওয়ায় হতাশ হয়েছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।
নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, পুরো বিচার প্রক্রিয়া নিয়েই চলেছে রাজনীতি। আর ২০ হত্যার অন্যতম দুই আসামিকে বছরের পর বছর ঘুরলেও আনা হয়নি ভারতের কারাগার থেকে। ২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার পর দিন খোকন সাহা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় দুইটি মামলায় (একটি বিস্ফোরক, অন্যটি হত্যা) জেলা বিএনপির তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক তৈমুর আলম খন্দকারকে প্রধান করে বিএনপি ও এর অঙ্গ দলের মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়। ঘটনার দীর্ঘ ২২ মাস পর ২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে মামলা দুটির ফাইনাল রিপোর্টে বলা হয়, ‘উল্লেখিত ২৭ জনের কেউই চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে ১৬ জুন ২০০১ সালের বোমা হামলায় জড়িত নয়। যদি ভবিষ্যতে অত্র মামলার তথ্য সংবলিত ক্লু পাওয়া যায় তবে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।’ পরে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ২ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে মামলাটি নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারকে আদেশ দেয়।
২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঘটনায় নিহত চা-দোকানি হালিমা বেগমের ছেলে আবুল কালাম বাদী হয়ে শামীম ওসমান, তার ভাই নাসিম ওসমান, সেলিম ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও এর সহযোগী সংগঠনের ৫৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত এ মামলাটি খারিজ করে দেয়। ঘটনার দীর্ঘ ১২ বছর পর দুটি মামলায় ২০১৩ সালের ২ মে ছয় জনকে অভিযুক্ত ও ৩১ জনকে অব্যাহতি প্রদান করে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি মামলার প্রত্যেকটির ৯৪৭ পাতার চার্জশিট দাখিল করা হয়। এতে চার্জশিট থেকে তৈমুর আলম খন্দকারসহ ৩১ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আর অভিযুক্ত ছয় জন হলেন নারায়ণগঞ্জে ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল ক্যাডার মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাই শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, ওবায়দুল্লাহ রহমান, ভারতের দিল্লি কারাগারে আটক সহোদর আনিসুল মোরসালিন, মহিবুল মোত্তাকিম এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু। অভিযুক্তদের মধ্যে জামিনে থাকা কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও ওবায়দুল্লাহ রহমান ছাড়া অন্যরা গ্রেফতার রয়েছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় ২০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল আবু মোরসালিন ও মহিবুল মোত্তাকিম নামের সহোদর ভাই। হরকাতুল জিহাদের এ দুই জঙ্গি ২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া বোমা হামলার ঘটনার আগেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।
