ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাতায়াত বেড়ে গেছে। আর মানুষ পারাপারে মোটা টাকার বিনিময়ে সহায়তা করছে স্থানীয় দালাল চক্র। সুদূর খাগড়াছড়ি থেকেও মানুষ ভারতের জন্য মহেশপুর আনা হচ্ছে। করোনাকালীন সময় অবৈধভাবে ভারত যাতায়াতের কারণে সংক্রমণ ঝুঁকি বেড়েছে সীমান্ত এলাকায়। গত শুক্রবার যাদবপুর সীমান্ত এলাকার বেতবাড়িয়া গ্রাম থেকে ভারতে যাওয়ার সময় নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জন, বৃহস্পতিবার মাটিলা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকালে তিন জনকে এবং সোমবার ভারত থেকে অনুপ্রবেশকালে ১৭ জনকে আটক করে বিজিবি।
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় ভারতের সঙ্গে ৭০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে ১১ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। মূলত কাঁটাতারের বেড়াহীন সীমান্ত দিয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করে। বিজিবির ঝিনাইদহের খালিশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়রি থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অবৈধভাবে ভারতে যাতায়াতকালে ৯০০ জনকে বিজিবি আটক করেছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার সময় বেশি সংখ্যক আটক হয়েছে।
ভারতে থেকে পরিবার নিয়ে অবৈধভাবে আসার পর বিজিবির হাতে আটক নড়াইলের কালিয়ার সাজ্জাদ খোন্দকার জানান, কয়েক বছর আগে তারা পরিবার নিয়ে অবৈধভাবে ভারত যান। সেখানে মুম্বাই শহরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। স্ত্রী ঝিয়ের কাজ করতেন। করোনার কারণে কাজের অভাব দেখা দেওয়ায় দালাল ধরে দেশে ফেরেন। ভারতের দালালদের মাথাপিছু ১৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়। গভীর রাতে সীমান্তে আসার পর বিএসএফ আলো নিভিয়ে কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে দেয়। ওপারের দালালরা এপারের দালালদের হাতে তুলে দেয় তাদের। দালালারা এপারে এনে টাকাপয়সা কেড়ে নেয়। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরুসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে অনেক বাংলাদেশি আছে। সুরাট থেকে পালিয়ে আসা এক তরুণী জানায়, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ভারতে পাচার করা হয়। প্রথমে একটি গার্মেন্টস কারখানায় তাকে কাজ দেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে তুলে নিয়ে পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তে গরুসহ অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যারা পণ্য চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা মানুষ পারাপার করছে। মহেশপুরের মানবাধিকার কর্মী আব্দুর রহমান জানান, মহেশপুর জুড়ে মানুষ পাচারের একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা বর্তমানে মাথাপিছু ২৫ হাজার টাকা নিয়ে ভারতে মানুষ পার করছে। সীমান্তে আনার পর তাদের হাতে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বিজিবির খালিশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল আহসান জানান, মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় মানুষ পারাপারকারী দালালের সংখ্যা বেড়ে গেছে। সারা দেশে তাদের নেটওয়ার্ক আছে। সীমান্ত এলাকায় পাট খেত রয়েছে। সীমান্ত পার হওয়ার পর পাট খেতের ভেতর দিয়ে লুকিয়ে লোকালয়ে আসে। অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের আইন আরো কঠোর করে সাজা বৃদ্ধির প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
