বাইডেন-এরদোয়ান বৈঠকে বিরোধের জট খোলার সুস্পষ্ট লক্ষণ নেই

আপডেট : ১৫ জুন ২০২১, ২১:৫৫

ন্যাটো সামরিক জোটের শীর্ষ বৈঠকের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিপজ্জনক ক্রমাবনতি ঠেকাতে ব্রাসেলসে সোমবার মুখোমুখি বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। যার হাসিমুখের ছবি বিরল, সেই এরদোয়ানকে জো বাইডেনের সামনে হাসিতে বিগলিত হতে দেখা গেছে। তবে দুই দেশের মধ্যকার বিরোধের জট খুলেছে এমন কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি দুই নেতার বক্তব্যে। খবর বিবিসির

ঘণ্টাখানেক দুই প্রেসিডেন্ট একান্তে কথা বলেছেন। পরে দুজনেই পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সম্পর্কোন্নয়নে তাদের মধ্যে ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এমন মন্তব্যও করেছেন, এমন কোনো বিষয় তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে থাকতে পারে না, যার কোনো সমাধান নেই। কিন্তু সিরিয়ায় কুর্দি মিলিশিয়াদের প্রতি মার্কিন সমর্থন কিংবা তুরস্কে রাশিয়ায় তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা মোতায়েন করার মতো স্পর্শকাতর যেসব ইস্যুতে একসময়কার ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে, সেগুলোতে কোনো আপসরফা হয়েছে কি না বা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কি না, তার কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

বৈঠক নিয়ে জো বাইডেন কথা বলেছেন খুবই সামান্য। রাতে সংবাদ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তার আসন্ন বৈঠক নিয়ে কথা বলতে তিনি যতটা সময় ব্যয় করেছেন, তার ছিটেফোঁটাও ব্যয় করেননি এরদোয়ানের সঙ্গে তার বৈঠক নিয়ে কথা বলতে। সেই তুলনায় প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বরং ছিলেন কিছুটা খোলামেলা। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি যেসব বিষয়ে আমাদের মতবিরোধ রয়েছে তা নিয়েও কথা বলেছি।’

এরদোয়ান ইঙ্গিত দেন, সিরিয়ায় কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠী ওয়াইপিজিকে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থন নিয়ে তুরস্কের আপত্তির কথা তিনি বলেছেন। সন্ত্রাস দমনে দ্বৈত নীতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এক সন্ত্রাসীকে দমনে আরেক সন্ত্রাসীকে সমর্থন করা যায় না। কিন্তু ওয়াইপিজির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার নিয়ে বাইডেন কোনো প্রতিশ্রুতি তাকে দিয়েছেন কি না, তা অবশ্য বলেননি এরদোয়ান।

বিরোধের যত কারণ

সৈন্যসংখ্যার বিচারে তুরস্ক ন্যাটো জোটের ২ নম্বর সামরিক শক্তি। তুরস্কে ন্যাটো ও আমেরিকার একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র পর্যন্ত মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু সামরিক এই ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে এবং কেউই আশা করেননি যে একটি বৈঠকেই জমাটবাঁধা বরফ মুহূর্তে ম্যাজিকের মতো গলে যাবে। বৈঠকের আগে লন্ডনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টেনিও তাদের এক পর্যবেক্ষণ রিপোর্টে বলেছিল যে দুই নেতার কেউই এখন অন্যকে চটাতে চাইবেন না এটা ঠিক, কিন্তু বৈঠক থেকে এরদোয়ান গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুবিধা অর্জন করবেন, সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বড় কোনো সমস্যার কোনো ধরনের সুরাহা এই বৈঠক থেকে হবে না, যার অর্থ যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্কে উত্তেজনা চলতে থাকবে। কিছু পর্যবেক্ষক অনেকটা একই কথা বলেছেন। তাদের যুক্তি, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চলমান সংকটের পেছনের কারণগুলো খুবই স্পর্শকাতর। এর পেছনে জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং এরদোয়ানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে।