চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনন্যা আবাসিক প্রকল্প (২য় পর্যায়) বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে একনেক বৈঠকে চট্টগ্রামবাসীর আবাসন সমস্যা নিরসনে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল সাড়ে চার বছর।
গতকাল মঙ্গলবার প্রকল্প সংক্রান্ত বৈঠকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। এই মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটির মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন দেয়নি। সিডিএ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিকভাবে লাভজনক হবে কি না তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।
সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে অনন্যা ২য় প্রকল্পটির জন্য জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বাবদ মৌজা মূল্যের দেড় গুণ পরিশোধ সম্ভব ছিল। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় তা তিন গুণ হারে পরিশোধ করতে হবে। অনন্যা আবাসিক এলাকার প্রথম প্রকল্প দেড় গুণ হারে ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সিডিএ লোকজনের মধ্যে প্রতি কাঠা সাড়ে ৪ লাখ টাকা দরে প্রদান করেছে। অথচ বর্তমানে তিন গুণ হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হলে কাঠাপ্রতি জমি বিক্রি করতে হবে ১৫ লাখ টাকা।
জানা যায়, ২০১৭ সালে একনেক সভায় অনন্যা ২য় প্রকল্পটি অনুমোদনের পর তত্কালীন সিডিএ বোর্ড তা গুরুত্ব না দিয়ে ফেলে রাখায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। তাছাড়া ঐ এলাকার জমি সিডিএ অধিগ্রহণ করবে বলে জমির মালিকদেরকে কোনো নতুন স্থাপনা নির্মাণের নকশা অনুমোদন ও হস্তান্তরের অনুমোদন দেয়নি। ফলে জমির মালিকরাও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে এলাকাবাসী জানান।
সিডিএ ইতিমধ্যে অনন্যা আবাসিক প্রকল্প (এক) এবং কল্পলোক আবাসিক প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েক হাজার স্থানীয় ও প্রবাসী লোকজনের আবাসিক সমস্যা নিরসন করতে সক্ষম হয়। একইভাবে সিডিএ আর্থিকভাবেও লাভবান হয়। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে সিডিএ কর্তৃক কোনো আবাসন প্রকল্প গ্রহণ না করায় স্থানীয় লোকজনসহ সিডিএ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে সিডিএর নতুন চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা বোর্ড অনন্যা আবাসিক প্রকল্প (২য় পর্যায়) একনেক বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। সিডিএর নিজস্ব অর্থ না থাকায় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। কারণ ব্যাংকের শতকরা ৯ ভাগ সুদ প্রদান এবং কাঠাপ্রতি ১৫ লাখ টাকায় লোকজন প্লট ক্রয় করবে কি না তা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কয়েক মাস চলে যায়। আবার ব্যাংক থেকে উক্ত ঋণের ব্যাপারে সরকারি গ্যারান্টি চাওয়া হলে সিডিএ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় দুই দফায় তা ফেরত দেয়। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে গতকাল প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরিপ্রক্ষিতে নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত বৈঠকে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়নি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস জানান, প্রকল্পটি সার্বিক অবস্থার পরিপ্রক্ষিতে গ্রহণ করা উপযুক্ত কি না এ সংক্রান্তে সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
