প্রতিবাদের অধিকার আর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পার্থক্য বুঝতে হবে :ভারতের আদালত

আপডেট : ১৫ জুন ২০২১, ২১:৫৭

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গত বছরের মে মাসে সাম্প্র্রদায়িক দাঙ্গার এক দিন আগে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার সময় যে দুই নারী কর্মী গ্রেফতার হয়েছিলেন— তাদের জামিন দিয়েছে উচ্চ আদালত। নাতাশা নারওয়াল এবং দেবাঙ্গনা কালিতাসহ আরো বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে একটি কঠোর সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সরকারের সমালোচনা করে বলেছে, প্রতিবাদ জানানোর অধিকারের সঙ্গে সন্ত্রাসী কার্যক্রম গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। এ মানসিকতা বেগবান হলে তা হবে গণতন্ত্রের জন্য এক দুঃখজনক দিন। সরকারকে প্রতিবাদের অধিকার আর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পার্থক্য বুঝতে হবে।

দুই জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ঐ দুই নারী কর্মীর পাশাপাশি আসিফ ইকবাল তানহা নামে আরেক জন ছাত্র আন্দোলনকারীর জামিন মঞ্জুর করেছে। তিনিও গত বছর মে মাসে দিল্লির দাঙ্গা শুরুর কয়েক দিন আগে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বা সিএএ-র বিরুদ্ধে ছাত্র ও অধিকারকর্মীদের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন নারওয়াল ও কালিতা। সমালোচকদের অভিযোগ—এ আইনটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, তবে সরকার তা অস্বীকার করে।

এ আইনের বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। এ বিক্ষোভ সমাবেশগুলোর একটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে, যেখানে নারওয়াল ও কালিতা অংশ নিয়েছিলেন। এ বিক্ষোভের পালটা একটি রাজনৈতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এর পরদিন, যাতে সিএএ-কে সমর্থন জানানো হয়। সেদিনই শুরু হয় হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষ, যা পরের কয়েক দিনে রক্তাক্ত সাম্প্র্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ নেয়। এতে নিহত হয়েছিলেন ৫৩ জন, যার অধিকাংশই মুসলিম।—খবর বিবিসির