হাসপাতালের রোগীর বেড বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি

আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ২১:২৭

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ  হাসপাতালের রোগীর বেড বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় এক চিকিত্সককে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয়রা। ঘটনাটিকে চুরি বা পাচার বলে স্থানীয়রা দাবি করলেও চিকিত্সক শাহীনুর রহমান বলছেন অন্যকথা। গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে রংপুর নগরীর বুড়িরহাট রোড ডক্টরস ক্লিনিকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। একটি ভ্যানে করে বেডটি নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা বেডটি আটক করে। পরে বেডটি পৌঁছে দেন তারা।

অভিযুক্ত ঐ চিকিত্সকের নাম এ কে এম শাহীনুর রহমান । তিনি হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চাকরি করছেন। তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে।

 শাহীনুর রহমান জানান, তার মা দেড় মাস ধরে হাসপাতালের হূদেরাগ বিভাগে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। কিছুদিনের মধ্যে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে নেওয়ার কথা চলছিল। বাড়িতে যাতে বেডে থাকতে অসুবিধা না হয়, এ কারণে হাসপাতাল থেকে স্টোররুমে পড়ে থাকা পুরোনো বেডটি মুচলেকা দিয়ে গ্রহণ করেন। স্টোর কিপার বেলাল ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ইনচার্জ মমতাকে অবগত করে          মুচলেকার মাধ্যমে বেডটি নিয়েছিলাম। কিন্তু আজকের ঘটনার পর অনুভব করছি, আইনগত ভাবে এটা নেওয়া আমার ঠিক হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে হাসপাতালের স্টোর কিপার বেলাল হোসেন এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ইনচার্জ মমতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি। তবে নাম না প্রকাশের শর্তে একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই বেডটি স্যারের (ডা. শাহীনুর) অসুস্থ মায়ের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এটা চুরি বা পাচারের মতো কোনো ঘটনা নয়। কারণ বেডটি শাহীনুর স্যারের জিম্মায় ছিল, তাকে ব্যবহারের পর ফেরত দিতে হতো। 

হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম বলেন, ঐ চিকিত্সক তার মায়ের জন্য স্টোর কিপার ও ওয়ার্ড ইনচার্জকে অবগত করে বেডটি বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ ঘটনার সঙ্গে পাচারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে তার অনুমতি ছাড়াই হাসপাতাল থেকে বেডটি বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানান পরিচালক।