বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হলে মুদ্রা পাচার হবে না :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ২১:৫৪

দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হলে বিদেশে মুদ্রা পাচার হবে না বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি দেশে যদি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, মানুষ যদি মনে করেন যে এখানে বিনিয়োগ করলে লাভ হবে, তাহলে কেউ আর বিদেশে অর্থ নিয়ে যাবেন না। তবে যাদের অভ্যাস মুদ্রা পাচার করা তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। অর্থ পাচার রোধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এটা নিয়ে নতুন আইন হচ্ছে, কিছু সংশোধন হচ্ছে। আমরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে এটা রোধ করার ব্যবস্থা করব। তবে তার আগে আমাদের জানতে হবে কেন টাকা পাচার হচ্ছে। অর্থ পাচারের দুটি কারণ থাকতে পারে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটা কারণে হতে পারে দেশে বিনিয়োগের ব্যবস্থা নেই। আমরা দেশে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করব। তারা যদি দেশেই লাভবান হতে পারে, তবে টাকা পাচার কমবে। আরো একটা কারণ হতে পারে এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই টাকা পাচার করা। তাদেরকেও আমরা ডিজিটালি ট্র্যাক করে সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে এসে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেব। আমরা দেখেছি, কীভাবে টাকা পাচার হয়। যারা টাকা পাচার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে, সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। অনেকে জেলে আছে। এজন্য আইনি সংস্কার হচ্ছে।

রিজার্ভ থেকে শ্রীলঙ্কাকে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যদি ঋণ দিই তবে সারা দেশের মানুষ তা জানতে পারবেন। এটা এখনো প্রক্রিয়াধীন। আমরা যদি লাভবান হই, যদি বাড়তি কিছু পাই তাহলে মন্দ না। বিদেশে বা পার্শ্ববর্তী দেশে বাড়তি রিটার্নের আশায় ঋণ দিচ্ছি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগে তথ্য সংগ্রহ করব। এরপরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামশুল আরেফিন জানান, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে একটি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ১২টি প্রস্তাব অনুমোদন হয়। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জামালপুরস্থ যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল) এর জন্য জার্মানভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান হতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বয়লার ক্রয়ের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের জন্য ৭৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান হতে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অতিরিক্ত সচিব জানান, এই মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে টেলিকম অপারেটরদের তথ্য সংগ্রহ এবং রিপোর্টিং প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। সেইসঙ্গে প্রয়োজনীয় সব তথ্য বাস্তব সময়ে (রিয়েল টাইম) পর্যবেক্ষণ করা হবে। ভয়েস ও ডাটা ট্রাফিক, নেটওয়ার্ক ব্যবহার এবং সেবার মান সম্পর্কিত তথ্যের তাত্ক্ষণিক প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, সর্বোপরি সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব সম্পর্কে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে। সভায় পেট্রোবাংলা কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি এলপি প্রতিষ্ঠান হতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি সর্বমোট ৩১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর এক ক্রয় প্রস্তাবের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরভিত্তিক চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোট ১২ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল ৫ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের’ চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত কমার্শিয়াল কন্ট্রাক্ট এবং পেমেন্ট শিডিউলের সাপ্লিমেন্টারি এগ্রিমেন্ট-২-এর ৯টি পিসিসি ক্লজ পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়েছে, এর ফলে মোট চুক্তি মূল্যে (২১৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলার) কোনো পরিবর্তন হবে না তবে চুক্তির কিছু কিছু ক্লজ পরিবর্তন হবে।