করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় পরীক্ষা নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের সেশনজটে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে অটোপাশের বিকল্প হিসেবে শর্তযুক্ত প্রমোশন দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যলয় কর্তৃপক্ষ।
গতকাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থীকে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। প্রমোশন পাওয়ার শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান একটি শর্ত হচ্ছে—পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব শিক্ষার্থীদের অবশ্যই প্রথম বর্ষের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। কেউ যদি এই পরীক্ষায় অংশ না নেয় বা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রেগুলেশন অনুযায়ী ‘নট প্রমোটেড’ হয় সেক্ষেত্রে তার শর্তসাপেক্ষে দেওয়া প্রমোশন বাতিল বলে গণ্য হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী ২০২০ সালে অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছেন তাদের সবাইকে শর্তসাপেক্ষে ২য় বর্ষে প্রমোশন দিয়ে ক্লাস করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান মনে করেন, শিক্ষার্থীরা একই ক্লাসে বছরের পর বছর বসে থাকছে। তাতে কোনো লাভ নেই। তাদের বয়স বাড়বে আর একই শ্রেণিতে থাকবে এটার অবসান হওয়া দরকার। এ কারণে অনার্স প্রথম বর্ষে যারা আছে তাদের শর্তসাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে প্রমোশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
তিনি জানান, করোনার মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বর্ষ এবং অনার্স মাস্টার্সেও একইভাবে অটোপাশের চিন্তা করা হচ্ছে। আর এর মধ্যে যদি অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার গ্রহণযোগ্য এবং অনুমোদিত সফটওয়্যার এসে যায়—তাহলে তো আর সমস্যা থাকবে না।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছে সর্বমোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থী ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬২৬ জন, আর অনিয়মিত শিক্ষার্থী ১৯ হাজার ৫০ জন। এরা সবাই অর্থাত্ ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী অটোপাশ পেয়ে দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হলো। এর বাইরে প্রথম বর্ষের পরীক্ষার জন্য আবেদন করা মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার ১৫৯ জন। তাদের অটোপাশ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। পরে যখন আবার প্রথম বর্ষের লিখিত পরীক্ষা হবে তখন তারা মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেবে। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিল মোট ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭৬ জন শিক্ষার্থী।
তথ্য অনুযায়ী, এসব শিক্ষার্থীরা করোনার আগে একটি টেস্ট পরীক্ষায়ও অংশ নিয়েছিল। এখন তাদের প্রমোশন দেওয়া হলো।
