উচ্চ হারে টিকা দিয়েও সীমান্ত খুলতে পরছে না চীন

আপডেট : ১৭ জুন ২০২১, ০০:৩০

বাইরের বিশ্বের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করতে দ্রুত টিকা দিচ্ছে চীন। আগের চেয়ে তিন গুণ টিকা দিচ্ছে দেশটি। সাতটি কোম্পানির টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে সব অঞ্চলে সমান হারে টিকা না দেওয়ায় সংকট সহজে কাটছে না। ফলে সীমান্তও খোলা যাচ্ছে না। খবর ডয়চেভেলের

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হলেও ইতিমধ্যে অন্তত ৪৪ ভাগ নাগরিককে করোনা টিকার অন্তত একটি ডোজ দিতে সক্ষম হয়েছে চীন। দৈনিক টিকা দেওয়ার হারও অনেক বেড়েছে । গত এপ্রিলে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৪৮ লাখ মানুষকে একটা করে ডোজ দেওয়া হয়েছিল। চলতি মাসে তা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে তৈরি আরো তিনটি টিকা যোগ করে জনগণকে সাত ধরনের টিকা দেওয়া শুরু করেছে সরকার। অর্থাত্, চীনের জনগণের জন্য সাত ধরনের টিকার মধ্যে যে কোনো একটি নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। এত উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠেয় শীতকালীন অলিম্পিকের আগে করোনাকে নিয়ন্ত্রণে আনা। সেই লক্ষ্যে দেশের সীমান্ত ধীরে ধীরে খুলে দেওয়ার কথাও ভেবেছিল সরকার। কিন্তু সীমান্ত খোলার আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে খুলে দিতে গিয়েই দেখা দিচ্ছে সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখন তা করলে আবার নতুন করে করোনা সংক্রমণ ছড়ানো শুরু হতে পারে। তাদের মনে এমন শঙ্কার জন্ম দিয়েছে সব অঞ্চলে সমান হারে টিকা দেওয়ায় ব্যর্থতা। দেখা গেছে, জুনের প্রথম সপ্তাহে বেইজিং এবং সাংহাইয়ে যেখানে যথাক্রমে ৭০ এবং ৫০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে, সেখানে ছোট দুই শহর গুয়াংদং এবং শাংদংয়ে ২০ ভাগ মানুষকেও টিকা দেওয়া যায়নি। তাই কিছু এলাকায় টিকার দুই ডোজ দেওয়া দ্রুত শেষ হলেও কিছু এলাকায় সেই সাফল্য আসবে বেশ দেরিতে। ফলে সব অঞ্চলে সবার অবাধে যাতায়াত শুরু হলে নতুন করে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকবেই।

চাইনিজ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের গবেষক ফেং জিজিয়ান মনে করেন, বিশাল দেশ চীনের জনসংখ্যাও বিপুল বলে সব বিষয়ে সতর্ক না হলে সংকট আবার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রবল। সম্প্রতি ব্রিটেন আর চিলি দৈনিক সর্বোচ্চ হারে টিকা দিয়ে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিল। ফলে দেশ দুটি স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি শিথিল করতেও দেরি করেনি। তাতে নতুন করে সংকট দেখা দেয় দেশ দুটিতে। ইউরোপের দেশ ব্রিটেন আর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিকে তাই এখন করোনার নতুন প্রকোপ ঠেকাতে লড়তে হচ্ছে।