খাদ্যে ভেজাল ধ্বংস করছে আমাদের জীবন

আপডেট : ১৭ জুন ২০২১, ২০:৫৪

সুস্থ জাতির জন্য নিরাপদ খাবার গ্রহণ করা অপরিহার্য। কিন্তু দুঃখের বিষয়, যে খাদ্যের মাধ্যমে আমরা বেঁচে থাকব, সুস্থভাবে জীবনযাপন করব সে খাদ্যই যেন আমাদের জন্য দিন-দিন অনিরাপদ হয়ে পড়ছে। তৈরি করছে নানা ধরনের জটিল কঠিন রোগ বালাইয়ের ফাঁদ। তাই বর্তমানে ভেজাল আর বিভিন্ন রাসায়নিকের কবলে পরে বিশুদ্ধ খাদ্যের প্রাপ্তি ও নিশ্চয়তা যেন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। বাজার থেকে কেনা কোনো খাদ্যই যেন আজ বিশুদ্ধ নয়। শাকসবজি, ফলমূল, ডিম, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় প্রায় অধিকাংশ খাদ্যেই যেন ভেজাল আর নানান ক্ষতিকর  রাসায়নিকের সয়লাব। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বর্তমানে ফলমূল বেশিদিন তরতাজা দেখানো, ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি,  দ্রুত পাকানো ও দীর্ঘ দিনের জন্য সংরক্ষণ করতে এতে মেশানো হচ্ছে সোডিয়াম কার্বাইড, ইথিলিন, ইথোপেন, সানক্রেস্ট ও মেটালিন ইয়েলোর-এর মতো ক্ষতিকারক  রাসায়নিক। ফলের জুসে স্বাদ, গন্ধ, অম্লতা বাড়াতে জন্য মেশানো হচ্ছে সোডিয়াম সাইক্লোমেট, বিষাক্ত টেক্সটাইল রং, ফসফরিক অ্যাসিড ও বিভিন্ন ধরনের প্রিজারভেটিভ। মাছ-মাংসে পচন রোধে ব্যবহার করা হচ্ছে ফরমালিন। মসলাজাত দ্রব্যের গুঁড়োতে ব্যবহূত হচ্ছে কৃত্রিম রং, ক্রোমাইটেড, সাইপারমেথরিন ও ডায়াজিনম নামক মারাত্মক সব রাসায়নিক। বেকারির পণ্য থেকে শুরু করে, মিষ্টিজাত ভিন্ন দ্রব্যে স্বাদের আড়ালে লুকানো থাকছে ক্ষতিকারক টেক্সটাইল রংসহ নানা ধরনের রাসায়নিকের সংমিশ্রণ। ফুটপাত থেকে শুরু করে অনেক নামিদামি হোটেল-রেস্তোরাঁয় ব্যবহার করা  হচ্ছে  নিম্নমানের বাসি তেলসহ নানা ধরনের অস্বাস্থ্যকর উপাদান। এর ফলে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ  নানান ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের চেম্বারে লম্বা লাইন পড়ছে। এই ভেজাল খাদ্য যেন নীরবে ধ্বংস করে দিচ্ছে দেশ, জাতি ও নতুন প্রজন্মকে। একটি সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে মানুষকে হতে হবে শারীরিক ও মানসিকভাবে কর্মঠ এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। যার জন্য সবার আগে প্রয়োজন হবে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা।

মুহাম্মদ আবু হানিফ, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ