টাকা ছড়াচ্ছেন অনেক চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থী

আপডেট : ১৭ জুন ২০২১, ২২:৫৭

বরিশাল জেলার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সহিংসতা ততই বাড়ছে। একাধিক ইউপি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মেম্বার প্রার্থীদের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীগণ মিলে লাখ লাখ টাকা নির্বাচনি মাঠে ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে দফায় দফায় সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। সশস্ত্র হামলায় প্রার্থীদের কর্মীরা গুরুতর আহত হওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে একাধিক অভিযোগ করলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন অনেকেই। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনি মাঠে টাকা ছড়ানোর বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।                  বরিশাল সদর উপজেলার ২ নম্বর কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, তার নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে কাশিপুর এলাকায় এ ঘটনার পর তিনি বিষয়টি পুলিশ ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী এয়ারপোর্ট থানার এসআই রাজিব জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নুরুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন তার বাড়ির সামনে বহিরাগত লোকজন ও মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের পাঠিয়ে পাহারা বসানো হয়েছে এবং তাকেসহ কর্মীদের নির্বাচনি মাঠ ত্যাগ করতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে রিটানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ এবং নির্বাচনের দিন পর্যন্ত পুলিশের সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে বরিশাল পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেছেন।

সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ পাঁচ জন আহত হয়েছেন। বুধবার রাতে এ ঘটনায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হেদায়াতুল্লাহ খান আজাদী, তার কর্মী সাইদুল ইসলাম, রাকিব মাহামুদ, সজল তালুকদার এবং শরীয়তুল্লাহ আহত হয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।  এদিকে জেলার ৫০ ইউপির মধ্যে অধিকাংশ উপজেলায় দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। হিজলা সংবাদদাতা জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে হিজলার গুয়াবাড়িয়া ইউপির কাউরিয়া বাজারে মাইকে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের আট জন আহত হন। 

মুলাদী সংবাদদাতা জানান, মুলাদীতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে মুলাদী-মৃধারহাট সড়কের ফায়ার সার্ভিস এলাকায় গাছুয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকসেদ মীরের গাড়িতে হামলা হয়। 

এছাড়াও বাকেরগঞ্জের ১১টির মধ্যে দুধল ইউপিতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও বাকি ১০ ইউপির সবটিতেই ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দুইটি ইউপিতে, বাবুগঞ্জের চার ইউপি, বানারীপাড়ার সাত ইউপি, উজিরপুরের পাঁচ ইউপি, গৌরনদীর সাত ইউপি নির্বাচনে প্রতিদিনই ঘটছে কোনো না কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।   বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার জানিয়েছেন, দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয় তার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।