সিলেটের গোয়াইনঘাটে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় জমি নিয়ে বিরোধ ও পারিবারিক কলহের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশ বলছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল, এমন তথ্য পেয়েছে তারা। সেই তথ্য আরো যাচাই-বাছাই চলছে।
সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে পুলিশ জমি ও পারিবারিক কলহের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত করছে। তবে ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামত, হিফজুরের শরীরের আঘাত ও ফোনকলের বিষয়গুলো দেখে ধারণা করা যাচ্ছে, পারিবারিক কলহের কারণে হিফজুর রহমান স্ত্রী-সন্তানদের বটি দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে থাকতে পারেন। পরে নিজের শরীরে কিছু আঘাত করে মৃতের মতো পড়ে থাকার ভান ধরেন। সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিত্সাধীন রয়েছেন হিফজুর রহমান। তার বক্তব্য নিতে পারলেই হত্যার জট খুলবে।
উপজেলার বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের ঐ ঘটনায় হিফজুর রহমানের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আলেয়া বেগম (২৭), ছেলে মিজান আহমদ (১১) ও মেয়ে তানিসা (৫) বেগম নিহত হন। তবে এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি। গত মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা ও পুলিশ।
সূত্রমতে, হিফজুরের শ্যালিকার বিয়ের কথা ছিল আজ শুক্রবার। এই বিয়েতে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে আলেয়া বেগমের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। ঝগড়ার জের ধরে দুই শিশুসহ আলেয়াকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। তবে পুলিশ তাদের ফোন কলসহ অন্যান্য বিষয়াদি যাচাই করছে।
অপর এক সূত্র জানায়, ইসলাম নামে এক প্রতিবেশী হিফজুরের পরিবারে কলহের কথা জানতেন। তিনি গত দুই মাসে দুইবার সালিশও করেছেন ঐ পরিবারের। পারিবারিক কলহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এমন ধারণায় হিফজুর রহমানই পুলিশের প্রধান সন্দেহের তালিকায় চলে আসেন।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ জানান, বুধবার ভোরে আত্মীয় ফয়েজ মিয়াকে মোবাইলে কল দিয়ে হিফজুর বলেন, আমি অসুস্থ, হাসপাতালে নিতে হবে। টাকা-পয়সা নিয়ে দ্রুত চলে আসেন। এসময় স্থানীয়রা ছবি তুলতে গেলে চোখ খুলে হিফজুর আবারও চোখ বন্ধ করে ফেলেন। তার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ সার্কেলের এএসপি (সার্কেল) প্রভাষ কুমার সিংহ জানান, হাসপাতালে চিকিত্সাধীন হিফজুরের জ্ঞান ফিরলেও তার ডান উরুতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার সঙ্গে কথা বলার পর ঘটনার মূল রহস্য বেরিয়ে আসতে পারে।
অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা
শিশুসহ মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে বুধবার রাতে নিহত আলেয়ার বাবা আইয়ুব আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
