দণ্ডিত পাপুলের আসন শূন্যই থাকছে

আপডেট : ১৭ জুন ২০২১, ২২:৫৯

নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে বিদেশের মাটিতে সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র এমপি শহিদ ইসলাম পাপুলের লক্ষ্মীপুর-২ আসন শূন্য ঘোষণাসংক্রান্ত জাতীয় সংসদের স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে সেখানে উপনির্বাচনের তপশিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিট খারিজে হাইকোর্টের আদেশও বহাল রাখা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের  নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়।

গত ৮ জুন লক্ষ্মীপুর-২ আসন শূন্য ঘোষণা এবং উপনির্বাচনের তপশিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পাপুলের বোনের দায়েরকৃত রিট সরাসরি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। শুনানিতে স্থগিত আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট এমপির আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসন শূন্য ঘোষণার সুযোগ নেই। সংসদের কার্যবিধি অনুসারে সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে দণ্ড সম্পর্কে অবহিত হয়ে স্পিকার আসন শূন্য ঘোষণার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে এমপি পাপুলের ক্ষেত্রে কুয়েতের আদালত থেকে এমন কোনো চিঠি বা তথ্য স্পিকারের কাছে পাঠানো হয়নি, যার পরিপ্রেক্ষিতে ঐ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

এই পর্যায়ে আদালত বলেছে, এখানে রিট আবেদনটি কে করেছে? সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ছাড়া তার পক্ষে কি কেউ এ ধরনের আবেদন করতে পারেন?

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, কুয়েতের রাষ্ট্রদূত এমপি পাপুলের দণ্ডিত হওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পিকারকে বিষয়টি জানানোর পর আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, আপিল বিচারাধীন থাকলেও যদি দণ্ড স্থগিত না হয়, তাহলে দণ্ডিত ব্যক্তির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। গত সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াসহ তিন জনের আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের এ ধরনের আদেশ রয়েছে। অতএব, হাইকোর্টের রায় স্থগিতের কোনো সুযোগ নেই। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ পাপুলের বোনের আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখে। এই আসনে ১১ এপ্রিল নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।