বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনা নাটকে পরিণত হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে বাজেট সবার আগে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্যরা আলোচনা করেন। কিন্তু আমাদের এখানে দেখা যায়, বাজেট নিয়ে নাটক হচ্ছে। স্থানীয় এমপিরা তাদের এলাকার দু-একটি সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। একজন এমপিকে দেখা গেছে তিনি বাঁধ নির্মাণের দাবিতে গলায় প্ল্যাকার্ড নিয়ে সংসদে দাঁড়িয়েছেন। অর্ধেক এমপি বাজেট নিয়ে কিছু বলেনই না। নাগরিক সংলাপগুলোতেও আজকাল অর্থমন্ত্রীকে দেখা যায় না।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অক্সফাম আয়োজিত সংলাপে গতকাল বৃহস্পতিবার অধ্যাপক রেহমান সোবহান এ কথা বলেন। অনলাইনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। কোভিডকালীন এই বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের জন্য কী আছে? শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এতে সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্য আলী আশরাফ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন অংশ নেন।
দারিদ্র্য হার বিষয়ে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, করোনার প্রভাবে দেশে নতুন দরিদ্রদের স্বীকার করেন না অর্থমন্ত্রী, আমি তার সঙ্গে বড় দ্বিমত পোষণ করি না। কারণ নতুন গরিব ও পুরোনো গরিব এই দারিদ্র্যের পরিসংখ্যান এক ধরনের ধূম্রজাল সৃষ্টি করে। কারণ দারিদ্র্যের মাপকাঠি পরিবর্তন করলেই নতুন দারিদ্র্যের সংখ্যা পাওয়া যাবে, অথচ এই মানুষগুলো আগে থেকেই দরিদ্র ছিল। মানুষ কতটা ঝুঁকিতে আছে, সেটাই বড় বিবেচ্য বিষয়। তিনি গরিব মানুষ ও দরিদ্রপ্রবণ এলাকা বিবেচনায় গরিব মানুষের জন্য বিমা সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। বাজেট নাটক কি না, এই প্রসঙ্গে রাশেদ খান মেনন বলেন, বাজেট নাটক কি না, জানি না। একটি স্টেজ থাকে, সেখানে গিয়ে আমরা হাজির হই। বাজেট নিয়ে সংসদে আলোচনা অর্থহীন। আলোচনা করতে হয় বলেই করি। ১০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকলে কী হয়, একটি পয়েন্ট আলোচনা করতেই ১০ মিনিট চলে যায়। তিনি বলেন, বাজেট আলোচনার কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে, একথা আমরা বহু আগে থেকেই বলে আসছি। বাজেট অনেকটা আমলানির্ভর হয়ে গেছে।
