দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে এক দিনে আরো ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ৪৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে এক দিনে এর চেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর এসেছিল সর্বশেষ গত ৩ মে। সেদিন ৬৫ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত এক দিনে কেবল খুলনা বিভাগেই ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহীতে মারা গেছেন ১৩ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ হাজার ৩৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে । এদিকে আগামীকাল শনিবার থেকে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় দফায় টিকাদান শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে উপহার হিসেবে চীন থেকে ১১ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা এবং কোভ্যাক্স প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৬ হাজার ডোজ ফাইজারের টিকা পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমএনসিএইচ) ডা. মো. শামসুল হক এ তথ্য জানিয়ে বলেন, যারা আগে নিবন্ধন করেছেন তাদের এই টিকা দেওয়া হবে। এখন নতুন করে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হবে। নিবন্ধিতদের টিকা দেওয়া শেষ হলেই নতুন করে নিবন্ধনের জন্য আহ্বান করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ৩ হাজার ৮৪০ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। নতুন আক্রান্তদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৮ লাখ ৪১ হাজার ৮৭ জন। সরকারি হিসাবে, আক্রান্তদের মধ্যে এক দিনে আরো ২ হাজার ৭১৪ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৭৬ হাজার ৪৬৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৫২৮টি ল্যাবে ২৪ হাজার ৮৭১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৬২ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৭টি নমুনা।
২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আগের দিন এই হার ১৬ দশমিক ৬২ শতাংশ ছিল। এক দিনের বিবেচনায় শনাক্তের হার সামান্য কমলেও গত কয়েক দিন ধরেই এই হার ১৫ শতাংশের বেশি থাকছে। দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার আগের দিনের ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ১৫ শতাংশ এবং খুলনা বিভাগে ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৭ শতাংশ হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের ২০ জন খুলনা বিভাগের, ১৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ১১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং ১০ জন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগে তিন জন এবং সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে দুই জন করে কোভিড রোগীর মৃত্যুর খবর এসেছে। তাদের মধ্যে ৪৫ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। তাদের ৪৬ জন সরকারি হাসপাতালে, ৯ জন বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। বাসায় মারা যান আট জন। মৃতদের মধ্যে ৩১ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ১৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, সাত জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, সাত জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, এক জনের ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং দুই জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল।
