সুরক্ষাসামগ্রী যখন বিপদের কারণ

আপডেট : ১৮ জুন ২০২১, ২১:১২

অলোক আচার্য

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। প্রতিদিন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুসংখ্যা আগের সংখ্যা অতিক্রম করছে। সংক্রমণের লাগাম টানতে কঠোর বিধিনিষেধ চলছে সারা দেশে। কিন্তু গণমানুষের মধ্যে অসচেতনতার কারণে বিধিনিষেধের পুরো সুফল পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠছে। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে  মাস্ক, গ্লাভস, পিপিইসহ বিভিন্ন সুরক্ষাসামগ্রীর ব্যবহার বেড়েছে। এসব সুরক্ষাসামগ্রীর ব্যবহার শেষে আমরা যদি যথাস্থানে না ফেলি এবং ধ্বংস না করি তাহলে তা আমাদের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এসব সুরক্ষাসামগ্রীই তখন রোগ বিস্তারের উপকরণ হবে। এসব ব্যাপারে আমরা এতটাই উদাসীন যে, ভাবতেই পারি না এসব সুরক্ষাসামগ্রী যথাস্থানে ফেলা এবং ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করার পর কী করা উচিত তা নিয়ে মোটেই মাথা ঘামাচ্ছি না। আবার অনেক ক্ষেত্রে করোনা রোগীর ব্যবহূত মাস্ক, গ্লাভস এসব সাধারণ বর্জ্য-আবর্জনার সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। অলিতেগলিতে, রাস্তাঘাটে, ড্রেনে, ফুটপাতে এসব দেখা যাচ্ছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য যারা রাস্তা থেকে অপসারণ করছেন সেই মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক শ্রেণির অসচেতন মানুষ প্রতিদিনই যেখানে সেখানে ব্যবহূত মাস্ক, গ্লাভস ফেলে রাখছেন। এসব করোনা সুরক্ষাসামগ্রী এখন হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেলে দেওয়া এসব সুরক্ষাসামগ্রী করোনা ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে।  এ ছাড়া যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়া মাস্ক হতে পারে নানাবিধ রোগের কারণ। আমরা প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনা ফেলতেও যেখানে ডাস্টবিন ব্যবহার করি না, সেখানে করোনার সুরক্ষাসামগ্রী সবাই ডাস্টবিনে ফেলবে—এমন আশা করা বৃথা। বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে, ব্যবহূত এসব মাস্কের একটি অংশ পরিবেশে দীর্ঘদিন থাকবে, পলিথিনের মতো এগুলো সহজে গলবে বা নষ্ট হবে না।

কোভিড-১৯ ভাইরাসের তাণ্ডবলীলার সঙ্গে যখন পৃথিবীর মানুষ গত বছর প্রথমবারের মতো পরিচিত হয় সেই তখন থেকেই এই ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছিল বিভিন্ন সংস্থা ও দেশের কর্তৃপক্ষ। কোনো দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউয়ের খবর পাওয়া গেছে। বিপদে ফেলছে করোনার নতুন নতুন স্ট্রেইন। আমরা যদি কেবল ভ্যাকসিন গ্রহণ করেই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলতে শুরু করি তাহলে ফের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বারবার বলা হচ্ছে যে, ভ্যাকসিন গ্রহণ করলেও করোনার স্বাস্থ্যবিধি ঠিকঠাক মেনে চলতে হবে, তা সত্ত্বেও অসচেতনতার কারণে আমাদের দেশে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীত পেরিয়ে এখন গরম। গত বছর এই সময়েই করোনার তাণ্ডব ক্রমেই শুরু হয়েছিল। সেই সময় থেকেই করোনার সুরক্ষাসামগ্রীর প্রচুর ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু সেই বর্জ্য কীভাবে ধ্বংস করা উচিত বা কোথায় ফেলা উচিত বা উচিত না সে বিষয়ে প্রান্তিক মানুষের ধারণা নেই বললেই চলে। করোনার এই তাণ্ডবলীলা কতদিন চলবে তার কোনো সদুত্তর নেই কারো কাছেই। হয়তো দীর্ঘদিন চলবে। ভ্যাকসিন প্রয়োগ হলেও সবসময়ের জন্যই সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের প্রতি জোর থাকবে। ফলে করোনার সুরক্ষাসামগ্রীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা করা জরুরি। সবার আগে এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করতে হবে। যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করতে হবে। 

পাবনা