ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
পশ্চিমের জেলাগুলোতে ধান, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, ডালসহ সব ধরনের কৃষিপণ্যের দাম অনেক বেশি। আর কৃষিপণ্যের এ উচ্চমূল্যে চাষির মুখে স্বস্তির হাসি থাকলেও ক্রেতারা অখুশি। সবে বোরো ধান উঠলেও ধানের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি ১০০ টাকা করে বেড়েছে। এতে চালের দামও বেড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলায় এবার বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। ২৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৬ টন বোরো ধান উত্পাদন হয়েছে, গম ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫০ টন, ভুট্টা ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪০ টন, পেঁয়াজ ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫১ টন, মসুরি ৯৬ হাজার ৮৫৭ টন, খেসারি ৭ হাজার ১৯৬ টন, সরিষা ৭০ হাজার ৯০৪ টন এবং সবজি উত্পাদন হয়েছে ১২ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬০ টন।
নতুন বোরো ধান ওঠার পর দাম কমেছিল। এখন চড়ে গেছে। মোটা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৫০ টাকা, মাঝারি চিকন ধান বি আর-২৮ ও হাইব্রিড বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ হাজার ১৫০ টাকা, চিকন ধান মিনিকেট প্রতি মণ ১ হাজার ২৫০ টাকা ও বাসমতি বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ হাজার ৩৫০ টাকা দরে। এবার পশ্চিমের জেলাগুলোতে গমের ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতি মণ গম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে। ভুট্টা প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ডালজাতীয় ফসলের উত্পাদনও ভালো হয়। নতুন মসুরি ওঠার পর প্রতি মণ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। খেসারি ডাল প্রতি মণ ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। সরিষা প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। আর সবজির বাজার এ বছর বরাবরই চড়া। বেগুন প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকা, পটোল ৩৫-৪০, ঢ্যাঁড়শ প্রতি কেজি ২৫-৩০, করলা প্রতি কেজি ৬০ এবং বরবটি প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজের দাম ওঠা-নামা করছে। নতুন পেঁয়াজ ওঠার পর প্রতি মণ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এরপর দাম কমে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় নেমে আসে। এরপর আবার দাম চড়ে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছিল। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে দাম ফের কমে প্রতি মণ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে।
মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘড়িয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান বলেন, বর্তমানে সব ধরনের কৃষিপণ্যের দাম মোটামুটি ভালো আছে। দাম এর চেয়ে কমে গেলে চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর গ্রামের সবজি চাষি ইজাজুল ইসলাম বলেন, সব ধরনের সবজির দাম চড়েছে। বর্ষা মৌসুমে দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি জানান। শুধু পটোলের দাম কম। প্রতি কেজি ১৫-২০ টাকা। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের চাষি আকমল হোসেন বলেন, কৃষিপণ্যের বর্তমান দামে কৃষকের অসুবিধা হচ্ছে না। তবে দরপতন হলে চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ঝিনাইদহ শহরের এইচএসএস রোড এলাকায় বাজার করতে আসা শুধাংসু ঘোষসহ অনেকে জানান, চাল, ডাল, সবজিসহ প্রতিটি কৃষিপণ্যের দামই বেশ চড়া। ফলে করোনার এই সময়ে এসব পণ্য কিনতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহেদুল আমিন জানান, এ বছর সব ধরনের কৃষিপণ্যের ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছেন চাষিরা।
