ভোলায় নেই রিভার ফায়ার স্টেশন
ভোলা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি
ভোলায় নেই কোনো রিভার ফায়ার স্টেশন। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার ফেরিঘাট ও চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ। প্রায়ই নদীর মধ্যে ফেরিতে ঘটছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। আর এতে নষ্ট হচ্ছে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন চরাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে গতানুগতিক পদ্ধতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় দমকল বাহিনীকে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন যাবত্ একটি স্থল কাম নদী ফায়ার স্টেশনের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। চারদিকে নদী বেষ্টিত দ্বীপ জেলা ভোলায় যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে নৌ-রুট ও ফেরি সার্ভিস। সম্প্রতি ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌ-রুটে মেঘনা নদীর মাঝখানে ‘এমভি কলমীলতা’ নামের একটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পণ্যবাহী ট্রাকসহ ৯টি গাড়ি পুড়ে যায়। শুধু স্থল ফায়ার সার্ভিস দিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব হচ্ছে না। মাঝনদীতে আগুন লাগলে সড়কপথে ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। তাই ব্যবসায়ীদের দাবি, জেলায় রিভার ফায়ার স্টেশন থাকলে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
স্থানীয় দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক শওকাত হোসেন জানান, ঢাকা থেকে বিভিন্ন মালামাল ট্রাকে করে আসলে ফেরিতেই আনতে হয়। কিন্তু ফেরিতে আগুন লাগলে তাত্ক্ষণিক নেভানোর কোনো সুযোগ থাকে না। সম্প্রতি কলমীলতা ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাই তার উদাহরণ। তাই অগ্নিদুর্ঘটনা এড়াতে ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরিঘাটে একটি ভাসমান রিভার ফায়ার স্টেশন নির্মাণ করা দরকার। পূর্ব ইলিশা যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভোলায় দুটি ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল রয়েছে। সেখানে আগুন লাগলে তাত্ক্ষণিক গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে অনেক সময় লেগে যায়। সম্প্রতি মেঘনা নদীর মাঝখানে ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস দেরিতে পৌঁছানোর কারণে ৯টি মালবাহী গাড়ি পুড়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। ভোলায় যে ফায়ার স্টেশন আছে তা নদীতে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কষ্টসাধ্য। তাই সরকারের কাছে দাবি করছি, এখানে রিভার ফায়ার স্টেশন নির্মাণের।
বিআইডব্লিউটিসির বিভাগীয় প্রধান মো. ইমরান হোসেন জানান, ভোলাসহ ২১ জেলার পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে ভোলা-লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল ফেরি সার্ভিস হয়ে। ফলে প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির মধ্যেই এ রুটে ব্যবসায়ীরা পণ্য আনা-নেওয়া করেন। তাই অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে ইলিশা ফেরি সার্ভিসের পাশেই রিভার ফায়ার স্টেশন নির্মাণ করা হলে ভালো হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ভোলার সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন জানান, জেলায় বিচ্ছিন্ন ছোট-বড় মিলে ৭০টির মতো চরাঞ্চল রয়েছে। সেখানে দ্রুতগতিতে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন পৌঁছাতে হলে অবশ্যই জলপথে যেতে হবে। সে কারণেই নৌ-ফায়ার স্টেশন খুবই জরুরি। তবে অগ্নিঝুঁকি ও নৌ-দুর্ঘটনা কমানোর জন্য ভোলা সদরের ইলিশা, ভেদুরিয়া এবং চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া ও দৌলতখান উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী লঞ্চঘাট এলাকাসহ জেলায় মোট চারটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ভোলার ইলিশায় একটি অন্যটি চরফ্যাশনের বেতুয়া নদীতে স্থল কাম নদী ফায়ার স্টেশন। এগুলো নির্মাণ হলে আশা করি ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে। জেলায় বর্তমানে সাতটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন আছে বলে জানান তিনি।
