‘ওটিটি সম্ভাবনাময় একটি মাধ্যম’

আপডেট : ১৮ জুন ২০২১, ২১:২৯

এদেশে বিজ্ঞাপন নির্মাণে তিনি অনেকেরই অনুপ্রেরণার নাম। এরপর ছবি নির্মাণে প্রথমটাতেই তাক লাগিয়ে দিলেন। পরের ছবিটি ‘রিকশাগার্ল’ নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক সম্মানের হাতছানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তার ভেতরে সুখবর হলো গুণী এই নির্মাতা এবারের সরকারি অনুদানের ছবির আর্থিক মনোনয়ন পেয়েছেন। কথা বলেছেন এ সময়ের চলচ্চিত্র ও শোবিজের খুঁটিনাটি নিয়ে। লিখেছেন এ এম রুবেল

আপনার নতুন ছবির কাজ সম্পর্কে জানতে চাই—

‘রিকশা গার্ল’ ছবিটি প্রায় গুছিয়ে এসেছে। এখন প্রযোজক ও পরিবেশকের হাতে ছবিটি। তবে অনেকেই ছবিটির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ছবিটি বিদেশি প্রযোজনা ও বিদেশি ভাষায় নির্মিত, গল্পের প্লটটা বাংলাদেশ। একঝাঁক গুণী শিল্পীকে নিয়ে কাজ করেছি ছবিটিতে।

সিনেমা দেখার মাধ্যম, দর্শক ও তাদের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। উত্কর্ষের জায়গায় অমিতাভ রেজার চোখে এই বদলগুলো কেমন?

দর্শক তো আলাদাভাবে তৈরি হয় না, সমাজের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়। অন্যদিকে একজন নির্মাতা তো আকাশ থেকে পড়ে না, সাংস্কৃতিক বিকাশ থেকে পরিবর্তিত হয়। এ বিশ্বায়নের যুগে এসে দর্শকরা সারাবিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানোর সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে বা সিনেমা দেখে যেমন রুচির পরিবর্তন আমরা আশা করি তেমন পরিবর্তন কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি না। এক ধরনের নোংরা রুচির বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাই। যা আমাকে খুবই বেদনা দেয়।

এ ধরনের রুচির দর্শকের জন্য মানহীন কন্টেন্টও নির্মিত হচ্ছে। যা দেখে আপনাদের মতো নির্মাতারা নিজেকে দূরে সরে রাখছেন। এটা কতটা ইতিবাচক?

আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। আমি যে ধরনের গল্প বলতে চাই আমার চলচ্চিত্রে সে ধরনের গল্পের জন্য যে সকল সাপোর্ট দরকার সেটা এই মুহূর্তে পাচ্ছি না। তবে আমার মনে হয় সাধ্য অনুযায়ী কাজ নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া আমাদের গল্প নির্বাচনে সমস্যা রয়েছে। এমন গল্প নির্বাচন করতে হবে যেটাতে আমি আমার জীবনের কথা বলতে পারবো, মানুষের কথা বলতে পারবো।

এখন নির্মাতারাই গল্পকার, চিত্রনাট্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। এতে চলচ্চিত্রের সাহিত্য মান কতটা বজায় থাকছে বলে মনে করেন?

এখন দেশের এক হাজারের বেশি নির্মাতা রয়েছেন, তবে সবাইকে নির্মাতা বললে ভুল হবে! এই শহরের উন্মুুক্ত চিন্তার পথ দিনদিন বন্ধ হওয়ায় সাহিত্যিক, নির্মাতা, শিল্পীর সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে না, আড্ডা হচ্ছে না। একে অপরের ভাবনাগুলো সবার সঙ্গে শেয়ার করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে এই সমস্যা দিনদিন বাড়ছে।

সাইবার বুলিং নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?

দেশের গুটিকয়েক মানুষ কিন্তু উচ্চবিত্তের খাতায় রয়েছেন। বাকি মানুষগুলোর না আছে আর্থিক স্বচ্ছলতা, না আছে প্রপার শিক্ষা। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই কিন্তু পাবলিক প্লেসে কোনোকিছু পোস্ট করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এই মাধ্যমটির সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের আছে কি-না!

বেশিরভাগ নির্মাতারই সমাজের অসংগতি নিয়ে নির্মাণে অনিহা রয়েছে। এর কারণ কী মনে করেন?

অসংগতি কিন্তু বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়। গভীরভাবে তুলে ধরা কেন হয় না, এটা যদি আমাকে বলেন তো বলবো, আমি ভয় পাই! সামাজিক, রাষ্ট্রীয়ভাবে এটাকে যেভাবে দমানো হয় যে সেটা মোকাবেলা করার মতো আমার ক্ষমতা নেই। তাই বেঁচে থাকার জন্য যে ধরনের কাজ করা উচিত সেটাই করার চেষ্টা করছি।

কোনো পড়াশোনা না করেই অনেকে নামধারী নির্মাতা হয়েছেন। কিন্তু চলচ্চিত্র নিয়ে যারা পড়াশোনা করছেন তাদের ভবিষ্যত্ কী?

এখন অনেকেই ভালো পড়াশোনা করলেও দেশের এই প্রেক্ষাপটে তারা কী করবে সেটা নিয়ে একটু দ্বিধায় থাকে। তবে এখন অনেক মেধাবী ছেলেমেয়ে চলচ্চিত্রে আসছে এবং ভালো কাজ করছে।

ওটিটি মাধ্যমটিকে কতটা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন?

ওটিটি প্রচণ্ড সম্ভাবনাময় একটি মাধ্যম। এখানে দর্শক তৈরি হওয়ারও সুযোগ রয়েছে। এখানে দর্শকরা গণমাধ্যমে যা দেখে তা দেখতে চায় না। সে নিজের মতো করে কিছু দেখতে চায়। তাই থ্রিলারধর্মী কাজগুলো জায়গা তৈরি করছে। এই মাধ্যমটিতে নির্মাতার সেটা দেখানোর সুযোগও রয়েছে। ওটিটি প্লাটফর্ম যদি ঠিকভাবে দাঁড়িয়ে যায় তাহলে নতুন নির্মাতা এবং নতুন গল্প বলার জন্য বড় সুযোগ তৈরি হবে।

দেশেও ওটিটি মাধ্যম যাত্রা শুরু করেছে। এখানে স্বাধীনভাবে কাজের সম্ভাবনা কতটুকু আছে বলে মনে করেন?

সামাজিকভাবে আমাদের দেশে এই স্বাধীনতা খুবই কম রয়েছে। কারণ দেশের মানুষ এখনো প্রস্তুত নয়। তবে যে নির্মাণ করবে তাকে দায়িত্ব নিয়ে নির্মাণ করতে হবে।

চলচ্চিত্র কী আদৌ সিনেমা হলে গড়াবে? এর ভবিষ্যত্ কী?

ভবিষ্যত্ নিয়ে তো বলা যাবে না। যখন টিভি আসে তখন তো বলা হয়েছিল সিনেমার দিন শেষ। কই সিনেমা তো আছেই! নতুন ট্রেন্ড এলে এমন বাধা-বিপত্তির কথা শোনা যাবেই। এটাকে মোকাবেলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়ানোর অন্তরায় কোনটাকে বলবেন?

যখন ভিন্নধর্মী চিন্তার অভাব থাকে তখন আলাদাভাবে চলচ্চিত্র দাঁড়ায় না। আমার মনে হয় এটা চলচ্চিত্র বিকাশের ক্ষেত্রে বড় একটি অন্তরায়। এছাড়া আমাদের রুচি, চিন্তার অভাব ও বিকশিত হওয়ার জায়গায় এক ধরনের বাধা রয়েছে।

নতুন শিল্পীর জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার কতটা সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন?

অবশ্যই বিরাট সুযোগ রয়েছে নতুনদের জন্য। তবে একটা বিষয় তাদের মাথায় রাখতে হবে যে, টিকে থাকতে হলে অবশ্যই নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে।