রাজধানীতে ভয়ংকর মাদক আইস (ক্রিস্টাল মেথ) ক্রয়-বিক্রয় ও তা সেবনকারী চক্রের ছয় হোতাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তারা হলো :তৌফিক হোসাইন, জামিরুল চৌধুরী ওরফে জুবেইন, আরাফাত আবেদীন ওরফে রুদ্র, রাকিব বাশার খান, খালেদ ইকবাল ও সাইফুল ইসলাম ওরফে সবুজ। এরা বেশির ভাগই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন। তিনি জানান, টেকনাফ থেকে ভয়ংকর মাদক ‘আইস’ সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করত একটি চক্র। সেই সঙ্গে বায়িং হাউজের নামে উত্তরায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে চলত মাদক সেবন ও অনৈতিক কার্যক্রম। সেখানে মাদক সেবনের পর উচ্চবিত্ত শ্রেণির তরুণ-তরুণীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে করা হতো ব্ল্যাকমেইল, অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করা হতো অর্থ। খন্দকার আল মঈন জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চলা অভিযানে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকা থেকে এই ছয় জনকে গ্রেফতার করে র্যাব। র্যাব-৩ এর অভিযান চলাকালে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে আইস, ইয়াবা, বিদেশি মদ, গাঁজা ও ১৩টি বিদেশি অস্ত্র, এয়ার গান, রেপ্লিকা অস্ত্র, ইলেকট্রিক শক যন্ত্র, মাদক সেবনের সরঞ্জামাদিসহ ল্যাবরেটরি সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিরা একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্য। শুধু মাদক বিক্রি নয়, বিক্রির পর তা সেবনের স্থানের ব্যবস্থাও করত এই চক্র। যেসব তরুণ-তরুণীরা তাদের ব্যবস্থাপনায় মাদক সেবন করতে আসতেন, তাদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করত তারা।
র্যাব জানায়, এই চক্রের আইস মাদক ব্যবসার অর্থ জোগানদাতা ছিলেন গ্রেফতারকৃত জামিরুল চৌধুরী ওরফে জুবেইন। রাজধানীতে আরো ৫০ জনের মতো আইসসেবী রয়েছেন। এই চক্রটি তাদের কাছে আইস পৌঁছে দিত। জানা গেছে, জুবেইন লন্ডন থেকে বিবিএ, তৌফিক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে বিবিএ, খালেদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ, রুদ্র ও সাইফুল এইচএসসি পাশ করার পর ড্রপ আউট, খালেদ একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তবে রুদ্রের নামে তিনটি মাদক মামলা এবং জুবেইনের নামে একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
