প্রেমিক হুসাইন ভাঙা পা নিয়ে ক্লিনিকের কেবিনে শুয়ে। অসুস্থ প্রেমিককে দেখতে এলেন প্রেমিকা তাসফিয়া। একপর্যায়ে সেই কেবিনেই বিয়ে ও বাসর হলো তাদের। চমকপ্রদ এ ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ফাতেমা ক্লিনিকে।
সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় উপজেলার চরপাড়া গ্রামের আব্দুস সোবহানের অনার্স পড়ুয়া ছেলে হুসাইন আহমেদের (২৩) ডান পা ভেঙে যায়। তিনি গত কয়েক দিন ধরে আলমডাঙ্গার ফাতেমা ক্লিনিকের ৪০৩ নং কেবিনে চিকিত্সা নিচ্ছেন। সঙ্গে রয়েছে তার মা-বাবা ও বোন। এ খবর পেয়ে হুসাইনের প্রেমিকা তাসফিয়া সুলতানা মেঘা (১৯) ঝিনাইদহ জেলার লেবুতলা থেকে ছুটে আসেন। সবকিছু জানার পর হুসাইনের অভিভাবক তাসফিয়ার বাবাকে ফোনে এ ঘটনা জানালে তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানান। সম্ভব হলে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। বাবার কথা শুনে ঝিনাইদহ কেসি কলেজ থেকে এ বছর ইন্টারমিডিয়েট পাশ করা তাসফিয়াও বিয়ের দাবিতে অনড় থাকেন। এক পর্যায়ে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। গভীর রাতে হাসপাতালের কেবিনেই কাজী ডেকে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর ঐ কেবিনই হয় তাদের বাসরঘর।
বিয়ের ব্যাপারে বর হুসাইনের বাবা আব্দুস সোবহান বলেন, ‘ছেলে-মেয়ের সম্পর্কের জের ধরে দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই যাওয়া-আসা ছিল। বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল। কিন্তু হুসাইনের পা ভেঙে যাওয়ায় তাসফিয়ার বাবা-মা কিছুটা বেঁকে বসেন। তাসফিয়াও দেখতে এসে বাড়িতে ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বিয়ে দিয়েছি।’
