ব্রাজিলের খেলা যখনই হোক পোড়খাওয়া সমর্থকরা কষ্ট করে খেলা দেখবেন, এটা সহজেই বলা যায়। বাংলাদেশের সময় গতকাল ভোর ৬টায় কোপা আমেরিকা কাপে ব্রাজিল ম্যাচ দেখেতে ভুল করেননি। বৃষ্টিস্নাত ছুটির দিন আলসেমি করে ঘুমিয়ে থাকার ইচ্ছে থাকলেও টিভির পর্দায় চোখ রেখেছেন নেইমার ভক্তরা। ব্রাজিল ৪-০ গোলে পেরুকে উড়িয়ে দিয়েছে। স্কোর লাইন দেখে সেটাই বোঝা যায়, ব্রাজিল উড়িয়ে দিয়েছে পেরুকে। যারা ঘুমের চোখ কচলাতে কচলাতে খেলা দেখেছেন তাদের মনে খটকা লাগবেই। রাতে ইউরোতে বেলজিয়াম ডেনমার্কের খেলায় যে ঝাঁঝ দেখা গেছে সেই ঝাঁঝ খুঁজছিলেন ব্রাজিল পেরুর কোপা আমেরিকার ম্যাচে। ঝাঁঝ না থাকারও অবশ্য একটা কারণও ছিল। বেলজিয়াম ডেনমার্কের ম্যাচ স্টেডিয়ামে দর্শক ছিল। আর ব্রাজিল পেরুর ম্যাচে রিও ডি জেনেরিওর নিলটন স্যান্টোস স্টেডিয়ামে দর্শক ছিল না। ফাঁকা গ্যালারিতে অনেক সময় ভালো খেলার আনন্দটা পুরাপুরি পাওয়া যায় না। তার পরও নেইমাররা বড় জয় উপহার দিয়েছে। যদিও শুরুটা গা ছাড়া ভাব নিয়ে। কিন্তু প্রথম গোলটা পাওয়ার পরই যেন খানিকটা তেজ বেড়ে গিয়েছিল পেলের দেশের।
ব্রাজিলের এই স্টেডিয়ামে ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিক গেমস হয়েছিল। গেমসের অ্যাথলেটিকস দেখার জন্য সেখানে উপচে পড়া ভিড় দেখা যেত। রিও শহরেই এই স্টেডিয়াম। দৃষ্টিনন্দন এই স্টেডিয়ামে চোখে তাক লাগিয়েছিলেন উসাইন বোল্ট। ১০০ মিটার স্প্রিন্টসহ বোল্টের যত ইভেন্ট সেখানে হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে উসাইন বোল্ট আসবেন বলে বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের শতাধিক সাংবাদিক অধীর আগ্রহে হাজির হয়েছিলেন। বোল্টের খেলা দেখার জন্য ঘণ্টা অপেক্ষা করতেন দর্শক। নীল অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে উসাইন বোল্ডের ক্ষিপ্রগতির দৌড় এখনো চোখে লেগে রয়েছে। সেই মাঠেই গতকাল ভোরে ব্রাজিল পেরুর ম্যাচটা বাংলাদেশের সাংবাদিকদেরও নষ্টালজিক করেছিল।
কোপায় ব্রাজিল প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে ভেনেজুয়েলাকে হারিয়ে সূচনা করেছিল, কাল ভোরে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে ভালো অবস্থানে চলে যাচ্ছে ব্রাজিল। এবারও নেইমার উজ্জ্বলতা ছড়ালেন। কালও ম্যাচের দ্বিতীয় গোল করলেন নেইমার। আলেক্স স্যান্ড্রে ১২ মিনিটে গোল করেন। ৬৮ মিনিটে নেইমার গোল তুলে নিলেন। এই গোলের আগেই পেনাল্টি পেয়েছিল ব্রাজিল। নেইমারও বল বসিয়েছিলেন। হঠাত্ কী মনে করে রেফারি ভার (ভিডিও অ্যাসিসট্যান্স রেফারি) চাইলে ভার বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে অন্তত ১৫ বার নেইমারকে ফাউল করার রিপ্লেটি দেখে পেনাল্টি নাকচ করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই দারুণ এক গোল উপহার দেন নেইমার।
আগের ম্যাচের একাদশ থেকে কোচ তিতে ৬ ফুটবলারকে বেঞ্চে বসিয়ে পেরুর বিপক্ষে একাদশ নামান। দুই গোলে এগিয়ে গিলে আরো পরিবর্তন আনেন তিনি। আর তাতে ৮৯ মিনিটে ইভার্টন রিবেইরো ৩-০ এবং যোগ হওয়া সময়ে রির্চালিসন চতুর্থ গোল করেন ৪-০।
