রাজধানীর আফতাবনগর পশুর হাট ইজারা দিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন! পৃথক দরপত্রের মাধ্যমে এক হাট দুই ইজারাদারকে দেওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় হাটটির ইজারা স্থগিত চেয়ে ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। এদিকে হাটটিতে চাঁদাবাজি নিয়ে আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যেও ব্যাপক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকায় আত্মগোপন করা বাড্ডার শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদি ও দুবাইয়ে আত্মগোপন করা ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অন্যতম জিসান একজোট হয়ে এই পশুরহাটে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় আত্মগোপন করা ডালিম-রবিন গ্রুপও পৃথকভাবে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছে।
প্রসঙ্গত, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজধানীর পৃথক ২৩টি স্থানে কোরবানির পশু বিক্রির জন্য অস্থায়ী হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর মধ্যে ডিএনসিসি এলাকায় ১০টি এবং ডিএসসিসি এলাকায় ১৩টি হাট বসবে। গত ১৩ জুন এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
জানা গেছে, উভয় সিটি কর্তৃপক্ষ আফতাবনগর পশুর হাটটি (জহিরুল ইসলাম সিটির ই ব্লকের ফাঁকা স্থান) নিজেদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে পৃথক দরপত্র দেয়। ডিএনসিসির দরপত্রে অংশ নিয়ে ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকায় হাটটির ইজারা পান বাড্ডা এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা শিমুল রহমান। অন্যদিকে ২ কোটি ৪১ লাখ টাকায় ডিএসসিসি থেকে একই হাটের ইজারা পেয়েছেন বাড্ডা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ওমর শরীফ দীপু। ফলে দুই জনই বৈধ ইজারাদার। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, ‘এ বিষয়ে রিট হয়েছে। রিটের শুনানিতে আদালত যে নির্দেশনা দিবে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।’
এর আগে বিগত বছরে দুই সিটি করপোরেশন ঐ এলাকায় পাশাপাশি স্থানে পশুর হাট বসায়। ২০১৪ সালে ১ কোটি টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সন্ত্রাসীরা এই হাটের ইজারাদার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান গামাসহ চার জনকে গুলি করে হত্যা করে। বাড্ডা এলাকার রাজনৈতিক নেতারা বলেন, আফতাবনগর পশুর হাট যারাই ইজারা পাক, প্রতি বছর হাট পরিচালনা করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা। বরাবরের মতো চলতি বছরও একই স্থানে দুই সিটি করপোরেশন থেকে দুইটি পশুর হাট ইজারা দেওয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে দুইটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। এই দুই গ্রুপ পৃথকভাবে ইজারাদারদের কাছে ১ কোটি টাকা করে চাঁদা দাবি করেছে। এ ব্যাপারে দুই ইজারাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পশুর হাট ইজারার দরপত্রে অংশ নিয়ে ব্যর্থ হয়ে ইসলাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গত বুধবার উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। রিটে বলা হয়েছে, ‘গত ১৮ মে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আফতাব নগরে (ইস্টার্ন হাউজিং) অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর দরপত্র আহ্বান করে। পরদিন ১৯ মে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে একই স্থানে পশুর হাট বসানোর দরপত্র আহ্বান করে। পরবর্তী সময়ে দুই সিটি একই স্থানে দুই পৃথক ব্যক্তিকে পশুর হাটের ইজারা দেয়। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। তাই এই ইজারা বাতিল করা হোক। ’
