- কাতারের গোলমেশিন আলি
স্পোর্টস ডেস্ক
কাতারকে এশিয়া কাপ জয়ে অন্যতম কান্ডারি স্ট্রাইকার আলমোয়েজ আলি ২০২২ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে আরো শেখার জন্য ইউরোপে খেলতে যেতে চান।
আলমোয়েজ আলি গত শুক্রবার কাতারের প্রথম এশিয়া কাপ জয়ের সুবাদে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফির পাশাপাশি সেরা গোলদাতার পুরস্কার পান। ফেবারিট ও চারবারের চ্যাম্পিয়ন জাপানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্ব দেখায় উপসাগরীয় দেশটি। আবুধাবির জায়েদ স্পোর্টস সিটিতে দলের হয়ে এদিন তিনি টুর্নামেন্টটিতে নিজের নবম গোল করেন। এর মধ্য দিয়ে ইরানের আলি দায়ির ১৯৯৬ সালে করা আট গোলের পুরনো রেকর্ডটি ভেঙে দেন তিনি।
আলি দর্শনীয় কায়দায় উল্টোদিকে ঘুরে বল জালে পাঠান। তখন খেলার মাত্র ১২ মিনিট। এ গোলের সুবাদে সুদানে জন্ম নেয়া ২২ বছরের স্ট্রাইকারটি সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পান। খেলা শেষে তিনি বলেন,‘আমি ভেবেছিলাম কয়েকটা গোল করবো। কিন্তু নয়টা নয়। আমার ধারণা ছিল গোল হবে হয়তো দুই কিংবা তিনটা। কিন্তু দলের সবাই আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। কারণ তারা ভালোভাবে রক্ষণ সামলেছে। গোল হজম করেছে কেবল একটি। কাজেই গোলগুলো করতে না পারলে আমাকে অবমাননার মধ্যে পড়তে হতো।’
রেকর্ড গড়া প্রসঙ্গে বলেন,‘আলি দায়িকে ছাড়িয়ে যাওয়া ছিল আমার জন্য দারুণ কিছু।’
কাতারের অ্যাসপায়ার একাডেমি থেকে স্নাতক হওয়া আলি জানান তার পরবর্তী লক্ষ্য হলো ইউরোপের কোন ক্লাবে যোগ দেয়া।
ফরোয়ার্ডটি বলেন, ‘অবশ্যই আমি ইউরোপীয় দলগুলোয় যেতে চাই। কারণ শুধু কাতারেই নয়, এশিয়া আমাদের লিগগুলোয়, আমরা জানি দলগুলো দুর্বল। সেটা আমরা বিশ্বকাপেও দেখতে পাই। দলগুলো বেশিদূর যেতে পারে না। সবসময়েই তারা বিদায় নেয়। আমি শেখার জন্য (ইউরোপ) যেতে এবং ২০২২ সালে দোহায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের জন্য ফিরে আসতে চাই।’
স্পানিশ কোচ ফেলিক্স সানচেজের অধীনে এ সাফল্য তুলে নেয় কাতার। বার্সেলোনার যুব দলের কোচ ফেলিক্স বলেন দলের কাছে আলির মূল্য শুধু বল জালে জড়ানো নিয়ে নয়। কোচ বলেন,‘আলমোয়েজ দুর্দান্ত এক খেলোয়াড়। কোচের কাছে সে আনন্দ বিশেষ। সে শতভাগ নিবেদিত। প্রতিটি খেলায় সে নিজেকে উজাড় করে দেয়। সে দলের জন্য খেলে, সে সেন্টার ব্যাকদের চাপে রাখতো।’
কোচ ফেলিক্স আরো বলেন,‘সে দুটো পুরস্কার পেয়েছে এবং এটা যোগ্যতার ভিত্তিতেই। ফুটবলে আমরা সবসময় দল নিয়ে কথা বলি। সে এটা দলের জন্যই পেয়েছিল। তারপরও সে সত্যিই খুব ভালো খেলেছিল। আমরা তার জন্য গর্বিত। সে সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।’
আরব বিশ্বে আনন্দের বন্যা
এদিকে কাতারের ঐতিহাসিক এশিয়া কাপ জয়ে আরব বিশ্বে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। উপসাগরীয় দেশগুলোতে এ জয়কে দেখা হচ্ছে আরবদের বিজয় হিসেবে। এসব দেশের মধ্যে আছে জর্দান, সুদান, প্যালেস্টাইন।
