সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নওগাঁ হাটের গবাদিপশু ও কাঠের তৈরি আসবাবপত্রের হাট বসে নওগাঁ জিন্দানী ডিগ্রি কলেজের মাঠে। সেখানকার ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই গুণতে হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত খাজনা! বৃহত্তম এ প্রসিদ্ধ হাটে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই।
নওগাঁ গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আব্দুস সামাদ বলেন, নওগাঁ জিন্দানী ডিগ্রি কলেজের মাঠে রয়েছে ৬০০ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা সংরক্ষিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ। হাটের লোকজন সেই স্মৃতিস্তম্ভের সিঁড়িতে বসে থাকছেন। গোবর-মূত্র পায়ে অনেকে ভেতরে ঢুকে স্মৃতিস্তম্ভের বেদীতে ঘোরাফেরা করছেন। এতে স্মৃতিস্তম্ভের পবিত্রতা ও পরিবেশ দুটোই নষ্ট হচ্ছে।

সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) হাটের দিন দেখা গেছে, নওগাঁ জিন্দানী ডিগ্রি কলেজ মাঠের মধ্যে গরু-ছাগল বেচা-কেনা হচ্ছে। মাঠের পূর্ব-দক্ষিণ কোণায় বসেছে কাঠের তৈরি বাসবাবপত্রের হাট। উত্তর-পশ্চিম কোণে মাছ ধরার চাইসহ বিভিন্ন উপকরণ বেচা-কেনা হচ্ছে। আর মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের সেই স্মৃতিস্তম্ভের সাথে বসেছে গানের মজমা। সেখানে গান গেয়ে লোক জরো করে এক কবিরাজ ওষুধ বিক্রি করছেন। এ হাটে অসংখ্য মানুষের সমাগম হয়েছে। কিন্তু বলতে গেলে ‘কারো মুখেই মাস্ক নেই।’ সবাই গাদাগাদি করে হাট করছেন।
তখন চোখে পড়ে, ইজারাদারের লোকজন হাটের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে টেবিল বসিয়ে খাজনা আদায় করছেন। তারা খাজনা আদায়ের রশিদে টাকার অংক ফাঁকা রেখে শুধুমাত্র ক্রেতা-বিক্রেতার নাম, ঠিকানা ও মোট মূল্য লিখে দিচ্ছেন। কিন্তু খাজনা আদায়ের তালিকা হাটের কোথাও নেই।
নওগাঁ জিন্দানী ডিগ্রি কলেজের ছাত্র রমিজুল ইসলাম ও ইব্রাহীম হোসেন বলেন, করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় তরুণ ও কিশোর ছেলেরা প্রতিদিন কলেজ মাঠে খেলাধুলা করেন। সেখানে হাট বসানোয় গোবর, ছাগলের লাদি ও গরু-ছাগলের মূত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। ওসব থেকে উদভট গন্ধ বেরোচ্ছে। শুধু তাই নয়, কলেজ মাঠের ভেতরে অধিক সংখ্যক ছোট ট্রাক ও বড় ভটভটি গাড়ি ঢোকানো হয়। সেসব যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হচ্ছে মাঠের সবুজ দুর্বা ঘাস। ফলে মাঠেই তৈরি হচ্ছে খানাখন্দ।
নওগাঁ জিন্দানী ডিগ্রি কলেজের সভাপতি ও নওগাঁ হাট কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম বলেন, হাটে স্থান সংকুলান। তাই কলেজ মাঠে হাট বসানো হয়।
নওগাঁ জিন্দানী ডিগ্রি কলেজের অধ্যাক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আবুল কাশেম বলেন, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কলেজ মাঠে হাট বসানো হচ্ছে। তাছাড়া এমন কাণ্ড আগে থেকেই ঘটে চলেছে। পরিস্থিতির কাছে তিনি নিরুপায়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মর্কতা ফকির জাকির বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে কোনো ধরনের গরুর হাট বসা নিষেধ। আবার তিনি এও বলেন, এ বিষয়ে তার কিছুই করার নেই। ইউএনও’র সাথে কথা বললে সব ঠিক হয়ে যাবে।
ইত্তেফাক/এনএ

