পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাস অনুযায়ী ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি

আপডেট : ১৯ জুন ২০২১, ২০:৪১

তাসফিয়া তাসমিন মিশু, প্রভাষক, বাংলা বিভাগ

ড.মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ, ঢাকা

গতকালের পর

‘আমার পথ’

প্রবন্ধ আলোচনা

৪। ‘এটা দম্ভ নয়, অহংকার নয়।’- কথাটি বুঝিয়ে দাও।

উত্তর:নিজেকে জানা, নিজের অন্তরের সত্যকে উপলব্ধি করা, এটা দম্ভ নয়, অহংকার নয়- প্রশ্নোক্ত বাক্যে কবি এ ভাবটাই বোঝাতে চেয়েছেন।

যে মানুষ নিজেকে চেনে তার মনের মধ্যে অপরিসীম জোর আসে। এই মনের জোরেই সে আর কাউকে ভয় করে না। আপন সত্যের শক্তিতে সে সব বাধা জয় করে। লেখকের মতে এভাবে নিজেকে চেনা এবং নিজের শক্তিতে আস্থা স্থাপন করা কোন দম্ভ নয়, অহংকার নয়- তা তার আত্মনির্ভরশীলতা।

৫। ‘যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।’- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:আলোচ্য উক্তিটির দ্বারা লেখক সামপ্রদায়িকতার প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

লেখক অসামপ্রদায়িক চেতনার অধিকারী। হিন্দু মুসলমানের মিলনের অন্তরায় কোথায় তা দেখিয়ে দেওয়া এবং সব জটিলতা দূর করাই তাঁর উদ্দেশ্য। মানুষে মানুষে যেখানে প্রাণের মিল, সত্যের মিল থাকে সেখানে কোনো ধর্মের বৈষম্য বা হিংসার ভাব থাকতে পারে না। দেশের পক্ষে যা ভালো বা সত্য তা লক্ষ্য করেই লেখকের এ যাত্রা। তাঁর বিশ্বাস, যার নিজের ধর্মের ওপর বিশ্বাস আছে, যে নিজের সত্যকে চিনেছে, সে অন্যের ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।

৬। ‘মানুষ ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম।’- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:মানুষ ধর্ম সবচেয়ে বড় ধর্ম বলতে লেখক জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের আত্মিক বন্ধনকে বুঝিয়েছেন। মানব ধর্ম সবচেয়ে বড় ধর্ম। মানুষ হিসেবে মানুষকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা করা, সম্মান দেখানো- এগুলোই মানব ধর্মের  মূলমন্ত্র। সমাজে মানব ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হলে শান্তি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে। সামপ্রদায়িক বিভেদ দূর হবে। ধর্মীয় বিভেদ এর কারণে মানুষে মানুষে হানাহানি রক্তারক্তি লেগে থাকে। এ সকল ধর্মীয় বিভেদ দূর করে মানবধর্ম কে সবার উপরে স্থান দেওয়া উচিত।

অনুশীলনের জন্য কিছু অনুধাবন প্রশ্ন:

১। কবি নিজেকে ‘অভিশাপ রথের সারথি’- বলে অভিহিত করেছেন কেন?

২। ‘সবচেয়ে বড় দাসত্ব’  বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৩। ‘আগুনের সম্মার্জনা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৪। ‘এই পরাবলম্বনই আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেলল’-লেখক কেন একথা বলেছেন?

৫। ‘আগুনের ঝান্ডা দুলিয়ে’- লেখক কোন পথে বের হলেন?