সারিয়াকান্দির কামালপুর সড়ক
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
গত বছরের বন্যায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার একটি খালের ওপর নির্মিত ব্রিজের দুই পাশের মাটি সরে যাওয়ায় সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না এলাকার মানুষ। একই উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ছাইহাটা এলাকাতেও এমন ছোট একটি ব্রিজে সংযোগ সড়ক নেই।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বাঁশের চাটাই দিয়ে অস্থায়ীভাবে নির্মিত ব্রিজ দিয়ে হেঁটে চলাচল করতে পারলেও পরিত্যক্ত ব্রিজ দুটির জন্য এ রাস্তায় কোনো যানবাহন চলতে পারে না। আবার ব্রিজের কাছে এসে শুরু হয় আরেক ভোগান্তি। পথচারীদের সড়ক থেকে নেমে ব্রিজের পাশের জমির আইল দিয়ে যেতে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কামালপুর ইউনিয়নের কামালপুর-ফকিরপাড়া রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় দুই কিলোমিটার। এ রাস্তায় একটি ব্রিজসহ দুটি কালভার্ট রয়েছে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফিট। স্থানীয়রা জানান, এটি নির্মাণ হয়েছে সাত থেকে আট বছর আগে। বিগত বন্যায় ব্রিজটির দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ার পর ব্রিজটি এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
কামালপুর ইউনিয়নের কড়িতলা এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় কলেজের অফিস সহকারী মাইনুল হাসান মজনুকে এ পথ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। তিনি বলেন, সড়ক মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করে। কিন্তু শুধু ব্রিজটির জন্য তা এখন আমাদের জন্য বিষফোড়া। ব্রিজের কাছে এসে আমাদের বহুদূর দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। বর্ষা আসলে তো আরেক বিপদ। বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। আমজাদ হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, শুকনো মৌসুমে তাও কষ্ট করে ঘুরে জমির আইল দিয়ে আসা যাওয়া করি। কিন্তু বর্ষাকালে নারীদের জন্য এ পথে চলা খুব বিপজ্জনক। এ ব্যাপারে কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়দুল ইসলাম বলেন, ফকির পাড়া গ্রামে রাস্তা আছে ঠিকই। কিন্তু মাটি না কাটার কারণ হলো সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য আমাকে কোনোদিন এ সমস্যার কথা বলেননি।
এছাড়াও রাস্তার পূর্বধারে বাঁধ ও যমুনা নদী থাকায় হয়তোবা রাস্তাটির প্রতি গুরুত্ব কম দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটি সংস্কার করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ছাইহাটা পূর্বপাড়া গ্রামের খালের ওপর নির্মিত প্রায় ১৫ ফিট দৈর্ঘ্যর একটি ব্রিজেরও সংযোগ সড়ক নেই। প্রায় বছর পাঁচেক আগে নির্মাণ করা হয় ব্রিজটি। ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহরাব মণ্ডল বলেন, ব্রিজ আছে কিন্তু রাস্তা না থাকায় আমাদের দুর্ভোগ সারা বছরের।
এসব ব্রিজের অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল মিয়া বলেন, গ্রামে এমন রাস্তা রয়েছে তা আমার জানা নেই। এমনটি হয়ে থাকলে সংস্কার করে রাস্তাগুলো সচল করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
