পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা মানসিক হাসপাতালের বেদখল হওয়া ৯০ বিঘার বেশি জমির খোঁজ পাওয়া গেছে। পাবনা জেলা প্রশাসক মো. কবির মাহমুদ ইত্তেফাককে জানান, এ জমির মধ্যে ৫৭ বিঘা জমি চলে গেছে হেমায়েতপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে, ১২ বিঘা জমি সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ১৫ বিঘা জমি গণপূর্ত বিভাগের নামে রেকর্ড হয়েছে। অবশিষ্ট জমি চলে গেছে অবৈধ দখলে। গত ১০ এপ্রিল দৈনিক ইত্তেফাকে ‘পাবনা মানসিক হাসপাতালের ৯০ বিঘার বেশি জমি বেদখল’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর পরই বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
এদিকে এসব জমি কীভাবে কোন চুক্তির আওতায় এসব প্রতিষ্ঠানের হস্তান্তর হয়েছে, সেটা জানে না মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমন কি এ সংক্রান্ত কোনো নথিও নেই তাদের কাছে। হাসপাতাল পরিচালক ডা. আবুল বাশার মো. আসাদুজ্জামান বললেন, সরকারের জমি হারায়নি। সরকারেরই আছে। অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে আছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালে পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুরে ৪১৩ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনার মানসিক হাসপাতাল। আগে এই জমির খাজনা দেওয়া হতো। এর মধ্যে পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে দেওয়া হয়েছে ৯৩ বিঘা জমি। বর্তমানে পাবনা মানসিক হাসপাতাল খাজনা দিচ্ছে ২৩০ বিঘা জমির। রহস্যজনকভাবে অবশিষ্ট ৯০ বিঘা জমির খোঁজ মিলছিল না। পর্যাপ্ত পরিমাণে জায়গা থাকায় জমি অধিগ্রহণের কোধেনা ঝামেলা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত পাবনা মানসিক হাসপাতালকে বিশ্বমানের হাসপাতাল করার পরিকল্পনা নেয় সরকার। ২০২০ সালের অক্টোবরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি টিম পাবনা মানসিক হাসপাতাল পরিদর্শন করে বেদখল হওয়া জমির বিষয় জানতে পারে। তারা কিছু নির্দেশনা দিয়ে যান। নির্দেশনার মধ্যে অন্যতম হলো, ৯০ বিঘা জমি দ্রুত উদ্ধার করা। এখন সেই জমির খোঁজ মিলেছে।
আধুনিক মানসিক হাসপাতাল সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ এখন জমি-সংক্রান্ত এ জটিলতা নিরসনের ওপরই নির্ভর করছে।
