সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
কোপা আমেরিকায় প্রথম ম্যাচে চিলির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর উরুগুয়ের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে জিতেছে। গতকাল বাংলাদেশ সময় ভোরে ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে মেসির আর্জেন্টিনা উরুগুয়েকে একমাত্র গোলে হারালেও পুরো ম্যাচের আলোতে ছিলেন মেসি। ১২ মিনিটে গোল করেন রদ্রিগেজ। এই এক গোলের ওপর ভর করে আর্জেন্টিনা জয় তুলে নিয়েছেন। রদ্রিগেজের গোলের কারিগর ছিলেন মেসি। অধিনায়ক মেসির অসাধারণ ক্রস যারা দেখেননি সত্যি তারা মিস করেছেন। মেসি ভক্তরা এমন সুন্দর গোল তৈরি করে দেওয়ার মুহূর্তটি মিস করার কথা না। সবার চোখে লেগে আছে গোল বানিয়ে দেওয়ার ছবিটি। বাম দিক থেকে উরুগুয়ের দুই ফুটবলারকে ডজ দিয়ে বক্সের কাছে গিয়ে বাঁ পায়ে নিখুঁত ক্রস করেন মেসি। উরুগুয়ের গোলমুখে জটলায় সবার মাথার ওপর দিয়ে বলটা ঠিক রদ্রিগেজের মাথায় পড়ে। রদ্রিগেজ মাথা ছুঁয়ে কোনাকুনি ফেললেন। বলটা সাইড পোস্টে লেগে উরুগুয়ের জালে জড়ায়। গোলটা ঠিকই রদ্রিগেজ করেছেন। কিন্তু গোলের আর্কিটেক্ট হয়ে থাকলেন মেসি। এটা তার অসাধারণ সৃষ্টিশীলতা। তার পায়ের জাদু দেখে সবার চোখ ছানাবড়া। মেসি হয়তো বার্সেলোনার জার্সি গায়ে বহুবার নানাভাবে গোল করিয়েছেন। কিন্তু এ ধরনের ক্রস চাইলেই দেখার সুযোগ হয় না। এ কারণেই হয়তো মেসির ফুটবল জাদু নিয়ে বারবার ফুটবল দুনিয়াকে তাক লাগান। তাকে নিয়ে আলোচনাটাও উঠে আসে বারবার। ফুটবল পণ্ডিতরা উরুগুয়ের বিপক্ষে গোলের পুরো কৃতিত্বটাই দিলেন অধিনায়ক মেসিকে। মেসি যেন ড্রিবল করতে না পারে সেই পরিকল্পনায় উরুগুয়ে মেসিকে ঘিরে রেখেছিল। কিন্তু পারল কোথায়। ড্রিবল করে গোলে কোপায় অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড গড়েছেন মেসি।
করোনার কারণে আগের দিন ব্রাজিল-পেরুর ম্যাচে দর্শক ছিল না। ম্যাচটাও খুব একটা উত্তেজনার মনে হয়নি। তবে গতকাল আর্জেন্টিনার ম্যাচে দর্শক না থাকলেও খেলাটা রশদ ছিল ঢের বেশি।
রদ্রিগেজ ক্লাব ফুটবলে রিয়াল বেটিসের জার্সি গায়ে খেলেন। মাঝমাঠের এই যোদ্ধা আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ১১টি ম্যাচ খেলে এবারই প্রথম গোলের দেখা পেলেন। রদ্রিগেজের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকল উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটা। কোপা আমেরিকাও স্মরণীয় হয়ে থাকল রদ্রিগেজের কাছে। রদ্রিগেজ আরো বেশি খুশি কারণ গোলের পাসটা এসেছে মেসির মতো ফুটবলারের কাছ হতে। তার কাছে মনে হচ্ছে এমন পাস আর কে দিতে পারে। তবে একটু ভয়ও ছিল দুর্দান্ত একটা ক্রসের বলটা মিস হয়ে যেত সাইড বারে লেগে গোল নিশ্চিত হয়েই গোলের উল্লাসে মেতে ছিলেন রদ্রিগেজ।
উরুগুয়ের দুর্ভাগ্য তারা ১২ মিনিটে গোল হজম করে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত চেষ্টা করে গোলটা ফিরিয়ে দিতে পারেনি। মার্টিনো, রদ্রিগো পল, গঞ্জালেস, পালাসিও, পারাদেজদের লড়াই লুইস সুয়ারেজদের আটকে রেখেছিল। রদ্রিগো পল বলছিলেন আমরা এই ম্যাচ নিয়ে সিরিয়াস ছিলাম। যেভাবেই হোক আমাদের তিন পয়েন্ট দরকার ছিল। যে কারণে আমাদের আক্রমণভাগ গোল পাওয়ার জন্য রাক্ষুসি ভূমিকায় নেমেছিলেন।’ ২০১৯ সালে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনাল হতে বিদায় নেওয়ার পর শেষ ১৫ ম্যাচে আর্জেন্টিনা হারেনি। ২২ জুন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা এবং ২১ জুন উরুগুয়ে খেলবে চিলির বিপক্ষে।
