চট্টগ্রামের স্থানে স্থানে জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ

আপডেট : ১৯ জুন ২০২১, ২২:১২

নগরীতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। খাল ও নালায় বাঁধ থাকায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন বাধাগস্ত করছে। ফলে পানি দ্রুত নেমে যেতে পারছে না। নগরীর কয়েক প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে রয়েছে। এতে বাসা বাড়ি ও  ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

দেখা গেছে গতকাল শুক্রবার রাতব্যাপী থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকালও বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল। এতে নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর, ২ নম্বর গেট, চান্দগাঁও, বাকলিয়া ডিসি রোড, কাপাসগোলা, হালিশহর, আগ্রাবাদ, বড়পুল এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি হয়েছে। জমে থাকা জলাবদ্ধতায় কয়েক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সকালে কর্মজীবীদের কর্মস্থলে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। রিকশা ও ভ্যানে করে মানুষকে যাতায়াত করতে হয়েছে। আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। এতে হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

সিডিএর কর্মকর্তারা জানান, আগ্রাবাদ এলাকায় বৃষ্টির সঙ্গে সমুদ্রের জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। এখানের খালের মুখে স্লইস গেট নির্মাণ করতে হবে। আর বহদ্দারহাট,মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকার বৃষ্টির পানি একটি মাত্র চাক্তাই খাল দিয়ে নিষ্কাশন হতে পারছে না। এখানের বহদ্দারহাট বারইয়ার পাড়া এলাকায় নতুন একটি খাল কাটার জন্য সিটি করপোরেশনের প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ায় খাল কাটা হচ্ছে না। এই খালটি হলে মুরাদপুর ষোলশহর, বহদ্দারহাট ও চান্দগাঁও এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী ভাবে নিরসন হবে। সিটিকর্পোরেশন সূত্র জানায়, বারইয়ার পাড়া খালটির         দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার। এখনো ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি। তাই প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলছে। এতে খাল ও নালায় বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে প্রকল্পের কাজ করতে হচ্ছে। বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। সিটি করপোরেশনের মেয়র অনেক আগে থেকে খাল ও নালায় নির্মিত বাঁধ কেটে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক জায়গায় পাকা দেওয়াল দেওয়া হয়েছে। এগুলো সরাতে সময় লাগবে। দেওয়াল সরিয়ে ফেলে কাজ করতে, আবার নির্মাণ করতে হবে। সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস ইত্তেফাককে বলেন বাঁধ গুলো সরাতে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কাজ করছে। ’