খুলনা ও বগুড়ায় কঠোর লকডাউন

আপডেট : ১৯ জুন ২০২১, ২২:২৪

দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। ভাইরাসের বিস্তার রোধে সাত দিনের কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে খুলনা ও বগুড়া জেলা প্রশাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, শনাক্তের হার ৬০.৮৬%।  কুষ্টিয়ায়          আরো সাত জনের মৃত্যু হয়েছে, শনাক্তের হার ৪৫ ভাগের বেশি। নাটোরে আরো এক জন মারা গেছে, শনাক্তের হার ৩৭%। এছাড়া দিনাজপুরে শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ৪৪ শতাংশে।

বগুড়ায় আজ থেকে লকডাউন

বগুড়া স্টাফ রিপোর্টার জানান, সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আজ রবিবার থেকে আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত বগুড়ায় লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সার্কুলার প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শনিবার রাত ১২টার পর থেকে এ লকডাউন কার্যকর হবে। হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খাবার সরবরাহ করতে পারবে। বাসসহ অন্যান্য যানবাহন বগুড়া শহর ছেড়ে যাবে না এবং প্রবেশ করবে না। তবে দূরপাল্লার বাস মহাসড়ক ব্যবহার করতে পারবে। জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। তাই নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করা হলো।

খুলনায় মঙ্গলবার থেকে লকডাউন

খুলনা অফিস জানায়, আগামী মঙ্গলবার থেকে সাত দিনের জন্য খুলনা জেলা ও মহানগরীতে কঠোর লকডাউন আরোপ করা হবে। এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কাঁচামাল ও ওষুধ বহনকারী যানবাহন ব্যতীত কোনো গণপরিবহন খুলনায় প্রবেশ করতে বা বের হতে পারবে না। গতকাল শনিবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, কঠোর লকডাউনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শিগিগর গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবাইকে অবহিত করা হবে। এছাড়া খুলনা জেনারেল হাসপাতালকে ৭০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে। এটি রবিবার থেকে চালু হবে।

সাতক্ষীরায় ৯ মৃত্যু, শনাক্তের হার ৬০.৮৬%

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, জেলায় সংক্রমণের হার আবার বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে পাঁচ নারীসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে এক জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং বাকিরা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত এক দিনে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এদিকে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর হার ৬০.৮৬ শতাংশ।

কুষ্টিয়ায় আরো সাত জনের মৃত্যু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন আরো সাত জনের  মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনায় মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়াল ১৪৭। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার তাপস কুমার সরকার জানান, হাসপাতালে প্রতিদিনই রোগী বাড়ছে। আগে জেলায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ১৪/১৫ ভাগ। এখন ৪৫ ভাগের ওপরে উঠে গেছে।

নাটোরে ব্যাংকের শাখা লকডাউন

নাটোর প্রতিনিধি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনা ভাইরাসে আরো এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৪২ জন। নতুন শনাক্ত ২৮ জন। পরীক্ষা বিবেচনায় সংক্রমণের হার ৩৭.৮৩%। এদিকে নাটোর ও সিংড়া পৌরসভায় ২য় দফার লকডাউনের ৩য় দিন চলছে। বাগাতিপাড়া উপজেলার অগ্রণী ব্যাংক শাখা লকডাউন করা হয়েছে।

দিনাজপুরে শনাক্তের হার ৪৭.৪৪ %

দিনাজপুর স্টাফ রিপোর্টার জানান, গত শুক্রবার করোনা শনাক্তের হার অতীতের সব রেকর্ড  ভেঙে দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ৪৪ শতাংশে। দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত ১৮ দিনে মারা গেছে ৪৫ জন।  এদিকে টানা সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধের (লকডাউন) চতুর্থ দিন শুক্রবার শহরে কমেছে যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের ঘোরাফেরা। লকডাউন কার্যকর করতে শনিবার থেকে প্রশাসন আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

মিরসরাইয়ে আক্রান্তের হার ৫৩%

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা  জানান, উপজেলায় বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। সর্বশেষ গত ১৭ জুন ১৫ জনের নমুনার মধ্যে আট জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে, আক্রান্তের হার ৫৩%।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় লকডাউন

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও আলুকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় আজ রবিবার থেকে সাত দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সভায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার এ ঘোষণা দেন।