বাংলাদেশে শিল্প খাতের ভবিষ্যত্ জ্বালানি হলো এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ও এলএনজি (তরলীকৃত প্রকৃতিক গ্যাস)। শিল্প খাতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের যৌক্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। গ্যাস অনুসন্ধানে বর্তমানে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ যুগোপযোগী নয় এবং অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ ৩০তম স্থানে রয়েছে। সহনশীল দামে এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহের লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিতে হবে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিল্প খাতের জ্বালানি উেসর ভবিষ্যত্ :এলপিজি ও এলএনজি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এ তথ্য জাননো হয়। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আনিছুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (গ্যাস) মো. মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী।
ওয়েবিনারের স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআইয়ের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান শিল্প খাতে চাহিদামাফিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান বৃদ্ধির পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ও এলএনজি আমদানির ওপর জোর দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, সরকার গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং জকিগঞ্জে সর্বশেষ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, সেখান থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, করোনা মহামারির সময়েও ১০ কোটি কিউবিক ফিট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা হয়েছে। এলএনজি ব্যবসায় ঝুঁকি কম থাকায় বর্তমানে সবাই এর দিকে ঝুঁকছে, এলপিজির বাজার প্রায় ১২ লাখ টন এবং ২৯টি কোম্পানি স্থানীয় বাজারে এলপিজি অপারেটর হিসেবে কাজ করছে। তবে ৫৬টি কোম্পানিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ছোট ছোট জাহাজে এলপিজি আমদানি করায় খরচ বাড়ছে, তবে মাতারবাড়ীতে এলপিজি টার্মিনালের কার্যক্রম চালু হলে এই খরচ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে আসবে। দেশীয় শিল্প খাতে এলপিজির ব্যবহার এখনো অনেক কম। তবে এলপিজি ও এলএনজির টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থানীয় উত্পাদন বাড়ানোর মাধ্যমে দাম কমানো সম্ভব।
মো. মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, বর্তমানে আমাদের গ্যাসের রিজার্ভ ছয় টিসিএফ এবং সারা দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য যে ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল, সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি। তিনি জানান, বর্তমানে ৩ হাজার ৩০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট গ্যাসের মধ্যে নিজস্ব উত্পাদিত গ্যাসের ৭৪ শতাংশ আসে নিজস্ব খাত থেকে, বাকি ২৬ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে এবং এই অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সালে দেশীয় উত্পাদন হবে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আমদানি খাত থেকে আসবে ৮৩ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে শিল্প খাতসহ সব খাতে ব্যয় বাড়বে। এমন বাস্তবতায় অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। পেট্রোবাংলার গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রাক্তন পরিচালক (অপারেশন) ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার সালেক সুফী ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফেকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান আমের আলী হোসেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক মো. শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী অংশগ্রহণ করেন।
অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানির দাম নির্ধারণের বিষয়ে সবাইকে আরো প্রতিযোগী সক্ষম হতে হবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি মূল্যের যৌক্তিকীকরণ, ক্ষেত্রবিশেষে মূল্য হ্রাসের আহ্বান জানান। বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, তৈরি পোশাক ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প খাতে গ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং টেক্সটাইল, ডাইং, স্পিনিং প্রভৃতি খাতে দেশের সাত-আট শতাংশ গ্যাস ব্যবহূত হয়।
