পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাস অনুযায়ী ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি

আপডেট : ২০ জুন ২০২১, ১৯:৪২

তাসফিয়া তাসমিন মিশু, প্রভাষক, বাংলা বিভাগ

ড.মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ, ঢাকা

 

আঠারো বছর বয়স

 

-সুকান্ত ভট্টাচার্য

 

কাব্যগ্রন্থ-ছাড়পত্র (১৯৪৮)

ছন্দ-মাত্রাবৃত্ত; ৬ মাত্রার মাত্রাবৃত্ত; প্রতি চরণে মাত্রা সংখ্যা ১৪ (৬+৬+২)

স্তবক-৮টি (প্রতি স্তবকে ৪টি করে পঙক্তি)

ধারণা করা হয়, আঠারো বছরে পদার্পণের আগেই কিংবা আঠারো বছর বয়সে কবি এই কবিতাটি রচনা করেন। কবিতাটিতে ‘আঠারো’ শব্দটি ব্যবহূত হয়েছে-৯ বার। কবিতাটিতে ‘আঠারো বছর বয়স’ শব্দবন্ধটি ব্যবহূত হয়েছে-৭ বার।

 

লেখক পরিচিতি

জন্ম:১৯২৬, কলকাতায়

মৃত্যু:১৯৪৭ (মাত্র ২১ বছর বয়সে)

কাব্যগ্রন্থ:ছাড়পত্র(১ম কাব্যগ্রন্থ), ঘুম নেই, পূর্বাভাস

অন্যান্য-মিঠেকড়া, অভিযান, হরতাল

সম্পাদিত গ্রন্থ- আকাল (ফ্যাসিবিরোধী শিল্পী সংঘের কাব্যগ্রন্থ)।

 

কবিতার মূল উপজীব্য বিষয়

=> তারুণ্যশক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য

=> যৌবনের তারুণ্য, উদ্দীপনা, সাহসিকতা, দুর্বার গতি, নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন এবং কল্যাণব্রত

=> তারুণ্য ও যৌবনশক্তিকে জাতীয় জীবনে প্রত্যাশা করা। কবি আঠারো চরিত্র ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে আঠারো বছর বয়সের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো খুঁজে পেয়েছেন

১) আঠারো বছর বয়স দুঃসহ, ২) মাথা তোলার ঝুঁকি নেবার স্পর্ধাদীপ্ত, ৩) দুঃসাহসী, ৪) নির্ভীক, ৫) অসম্ভবকে সম্ভব করতে চায়, ৬) তীব্র আত্মমর্যাদা সম্পন্ন, ৭) ভেঙে পড়তে জানে না, ৮) জীবনের সঙ্গে জীবনকে মেলাতে জানে, ৯) অন্তরশক্তিতে বলীয়ান, ১০) দেশের সমাজের কল্যাণে আত্মোত্সর্গ করতে বা অন্যায়কারীকে বধ করতে সদা প্রস্তুত,

১১) অপ্রতিরোধ্য, সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে চূর্ণ করে দিতে চায়, ১২) প্রতিকূলতায় নত হয় না, ১৩) বিপদের মুখে এগিয়ে যায়,

১৪) নতুনের পন্থী, ১৫) সংশয়, দ্বিধাহীন প্রাণে সর্বদা এগিয়ে চলার বাসনা।

গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবন প্রশ্ন:

১। ‘স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি’ বলতে বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর:স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি বলতে  আঠারো বছরের দুর্বার সাহসকে বোঝানো হয়েছে। আঠারো বছর বয়স মানেই বুকের ভেতর তারুণ্যের উত্তাল আনাগোনা আর সৃষ্টিশীল মানসিকতা। জীর্ণকে ধ্বংসের মাধ্যমে নব সৃষ্টিতেই তারুণ্য বেশি তৃপ্তি লাভ করে। আর এ জন্য প্রয়োজন বুক ভরা দুঃসাহস। আঠারো বছর বয়স দুঃসাহসকে পুঁজি করেই সম্মুখ সমরে অগ্রগামী হয়। এ বয়সের তরুণরাই অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ায়, প্রতিবাদ করে। কোনো বাধাই তাদের দমিয়ে রাখতে পারে না।

২। ‘প্রাণ দেওয়া নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য’ বলতে কী  বোঝানো হয়েছে?

উত্তর:সত্যের প্রতিষ্ঠায় আঠারো বছর বয়স কখনো সম্মুখ সমর হতে পলায়ন করে না, এ কারণেই প্রাণ দেওয়া-নেওয়ার ঝুলি শূন্য থাকে না। আঠারো বছর বয়সের গতি ঘূর্ণিঝড়সম দুর্বার সত্যের অবগাহন, মিথ্যা ও অপশক্তির সামনে নির্ভীক ঝাঁপিয়ে পড়ে আঠারো বছর বয়স। ফলে রক্তপাত একটা অনিবার্য বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রাণের এই খেলায় কখনো প্রাণ প্রতিষ্ঠা পায় বিজয়ে, আবার কখনো প্রাণ নিস্তেজ হয় ভয়ানক মৃত্যুতে। বস্তুত এ কারণেই আঠারো বছর বয়সে প্রাণ দেওয়া-নেওয়ার ঝুলি শূন্য থাকে না।

৩। ‘এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে’ এখানে ‘নতুন কিছু’ - দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর:এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে’ এ লাইনে ‘নতুন কিছু’ দ্বারা তারুণ্যের সাফল্যকে বোঝানো হয়েছে। পৃথিবীতে যত পরিবর্তন এসেছে, যতবার মিথ্যার ধ্বংস সাধিত হয়েছে, যতবার অন্যায়ের প্রতিবাদ হয়েছে প্রায় সব ক্ষেত্রেই তারুণ্যের উদ্যম লক্ষণীয়। কারণ তারুণ্য সত্য সন্ধানী ও সৃষ্টিতে উল্লাসী। হয়তো কখনো কখনো তারুণ্য আবেগের অধিক উচ্ছ্বাসে ব্যর্থ হয়। কিন্তু পৃথিবীতে তারুণ্যের অবদান অনস্বীকার্য। আলোচ্য লাইনে ‘নতুন কিছু’ দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে।

৪। ‘ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্র প্রাণ’ ব্যাখ্যা করো।  উত্তর:‘ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্র প্রাণ’ এ লাইন দ্বারা তারুণ্যের রক্তাক্ত অবস্থাকে নির্দেশ করা হয়।

তারুণ্য সৃষ্টিশীলতায় উন্মুখ, এ সৃষ্টিশীল চেতনায় প্রতিনিয়ত অপশক্তির আবির্ভাব বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দুর্বার তারুণ্য বাধাকে পেরিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়। তখন প্রাণপণ যুদ্ধে কখনো কখনো তারুণ্যের বুক থেকে রক্ত ঝরে, কিন্তু এ ক্ষতি তারুণ্যকে দমিয়ে রাখতে পারে না। নব উদ্যমে তারা সামনে এগিয়ে চলে। আলোচ্য লাইন দ্বারা এটাই নির্দেশ করা হয়েছে।