স্মৃতিতে ভরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিনগুলো

আপডেট : ২০ জুন ২০২১, ২১:০২

  ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে মধুর সময় বলা হয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে। দূরদূরান্তের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলাম গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। তখন আমরা সবাই নতুন, কেউ কাউকে চিনি না, কারো সম্পর্কে জানি না। একে তো পরিবার ছেড়ে দূরে আসার জন্য মন খারাপ থাকত সবার, কিন্তু তারপর আস্তে আস্তে সবার পরিচয় হতে লাগল। তারপর দুই থেকে তিনটা ক্লাস করার পরই শুরু হয়ে যায় বিভাগের আন্দোলন। আসলে স্কুল কিংবা কলেজের পড়ালেখা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখায় তফাত্ রয়েছে অনেক। শিক্ষকদের লেকচার শুনে ক্লাসে ঠিকমতো নোট নেওয়া, পরীক্ষার জন্য একটু একটু করে প্রস্তুত হওয়া, অনেকের কাছেই কঠিন মনে হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা মজার ব্যাপার হলো—সিনিয়রদের থেকে ট্রিট নেওয়ার একটা রেওয়াজ আছে, কিন্তু সেটা থেকেও আমরা বিরত রয়েছিলাম।

হঠাত্ মহামারি করোনা ভাইরাসের আবির্ভাব। যার কারণে ১৭ মার্চে ২০২০ পর বন্ধ হয়ে যায় দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর আমাদের মধ্যে নেমে আসে হতাশার ছাপ। নেই বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে তেমন পরিচয়, নেই সিনিয়রদের সঙ্গে পরিচয় এবং টিচারদের সঙ্গে নেই পরিচয়। এ যেন এক কষ্টের পাহাড় বয়ে বেড়ানোর মতো। একাকিত্বের, নিভৃতে থাকা জেলখানায় বন্দী কয়েদিদের চেয়েও বেশি কঠিন মনে হচ্ছে। ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য এখন সকাল ৯টা বেজে গেলেও কোনো তাড়া থাকে না। বন্ধু  ক্লাসে আসতে পারব না—আজ শব্দটি শোনা হয় না অনেকদিন ধরে। বন্ধুদের বলা হয় না আর আগামীকাল ম্যাম বা স্যারের ক্লাস হবে না। বলা হয় না আর ক্লাসে এত দেরি হলো কেন, কোনো সমস্যা কি? আর ম্যাম বলেন না আগামীকাল তোমরা সিভিলাইজেশ্যন, ইতিহাসের উত্স টপিকটা পড়ে আসবা। সিনিয়ররাও ক্লাসে গিয়ে বলে না আর সবাই সবার সাথে পরিচিত হয়েছ কি? কেউ বলে না আর অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের ফোন দিয়ে অবহিত করতে। ছোটবেলা থেকে অনেক ছুটি পেয়েছি কিন্তু এমন বেদনাবিধুর এবং দীর্ঘ ছুটি কখনো পাইনি।

সর্বোপরি একটা কথা না বললেই নয়, সেটা হলো অনেক স্বপ্ন নিয়ে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পা রাখেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের জন্য কিছু নিয়মনীতি রয়েছে সেগুলোতে আমরা কেউ অভ্যস্ত না। প্রথম বর্ষে মূলত সব শিক্ষার্থীরাই মোটামুটি ভয়ে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করেন। কারণ কখন কোন সিনিয়রের মুখে পড়তে হয়। অনেক সিনিয়র আছেন যারা এক্সট্রা ভাব নিতে গিয়ে জুনিয়রদের ওপর অত্যাচার করে থাকেন যদিও বা এসব অপকর্মে আমি সমর্থন করি না। কারণ তারা জুনিয়র ভুল করাটা স্বাভাবিক। একে তো তারা জুনিয়র, তার ওপর পরিবারকে ছেড়ে এতদূর এসেছে পড়ালেখা করতে। সব সময় টেনশন, মন খারাপ, হতাশা, দুশ্চিন্তা লেগেই আছে। সেই সময় তাদের পাশে কাউকে না কাউকে খুবই প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই সময় যত অঘটন-অপ্রীতিকর ঘটনা আছে সেসব জুনিয়রদের সঙ্গে ঘটে থাকে। চাইলে বন্ধুসুলভ ভাবে জুনিয়রদের ম্যানার শেখানো যায়। কিন্তু অনেক সিনিয়র তা না করে যখন তখন  ধমকের সুরে কথা বলে, এখানে আসো, ঐখানে  অমুক সময়ে আসো বলে মানসিক প্যারা দেয়। জুনিয়ররাও তো কারো ছোট ভাইবোন, তাদেরও তো নতুন পরিবেশ, আচার-আচরণ মানিয়ে নিতে সময় লাগে।

সঠিক সময়ে বা সমস্যার জন্য উপস্থিত হতে না পারলে একটা কথাও যেন মাটিতে পড়ে না। যদিও আমরা আমাদের ডিপার্টমেন্টের সিনিয়রদের সঙ্গে মেশার তেমন সুযোগ বা সময় পাইনি, তবে যেটুকু মিশেছি, কথাবার্তা বলেছি—অনেক ভালো লেগেছে। খুবই বন্ধুসুলভ তারা বিপদে-আপদে পাশে পেয়েছি তাদের। ফিরে আসুক আবারও সেইসব দিনগুলো। মিস করি সেই সময়ের কাটানো দিনগুলো।