সুস্থ দেহ, সুন্দর মন, উন্নত জীবন

আপডেট : ২০ জুন ২০২১, ২১:০৪

সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি, সামাজিক জ্ঞানবোধ, সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব এবং নেতৃত্বগুণ বিকশিত হওয়ার বীজ রোপণ হয় খেলার মাঠ থেকেই। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীর মধ্যে অনলাইন গেম আসক্তি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে—যা তাদের মানসিক বিকাশ ও নৈতিক আচরণ গঠনে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হতাশা, বিষণ্নতা, অবসাদ ও খিটখিটে মেজাজ তাদের সঙ্গী হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহানুভূতিশীল আচরণ সাংঘাতিকভাবে কমে যাচ্ছে। বাড়ছে আক্রোশ ও স্বার্থপরতা। তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের অনৈতিক কাজে। আর এর জন্য অনেকাংশে দায়ী খেলার মাঠের অপ্রতুলতা।

আমাদের দেশের ০ থেকে ২৫ বছর বয়সি জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ। আর এদের চাওয়া-পাওয়ার গুরুত্ব না দিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। দিনদিন খেলার মাঠ বা খোলা জায়গার পরিমাণ ক্রমশই হ্রাস পাচ্ছে যা ভয়াবহ পরিণামের দিকে ঠেলে দিচ্ছে আমাদের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৫ থেকে ১০ বছর বয়সি প্রতিটি শিশুর জন্য দিনে অন্তত এক ঘণ্টা বাইরে খেলাধুলা করার পরামর্শ দিচ্ছে; কিন্তু আমরা কি তাদের সেই সুযোগটুকু করে দিচ্ছি? নগরবিদরা জানিয়েছেন, একটি নগরের আয়তনের কমপক্ষে ২০ থেকে ২৪ শতাংশ খেলার মাঠ বা খোলা জায়গা প্রয়োজন; কিন্তু রাজধানী ঢাকাতে এর পরিমাণ আমরা দেখেছি ৫ শতাংশেরও কম। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এর ব্যতিক্রম নয়। এর মূল কারণ হচ্ছে, আমরা পরিকল্পিতভাবে এগুলো রক্ষা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছি।

খেলার প্রধান উদ্দেশ্য আনন্দ লাভ এবং খেলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক উন্নতি ঘটে; কিন্তু শিশুর বিকাশের জন্য খেলা যে কত গুরুত্বপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাটনি স্মিথ বলেছেন—অনুকরণ, অনুসন্ধান, পরীক্ষানিরীক্ষা এবং গঠন—এই চারটি মূল প্রক্রিয়ায় আমরা পৃথিবী সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করি, শিশুর খেলা সেই চারটি প্রক্রিয়া নিয়েই গঠিত। যে সময়টাতে শিশুর সবুজ মাঠে দাপিয়ে বেড়ানোর কথা; কিন্তু খেলার মাঠে না যেতে পেরে বাধ্য হয়ে সে সময়টা ব্যয় করছে অনলাইনে নতুবা অনৈতিক কাজে।

একজন মানুষ মানসিকভাবে বিকশিত হলে সমাজ ও দেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একজন মানুষকে শিশুকাল থেকেই খেলাধুলা করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তবেই তো পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও পারদর্শী হতে পারবে। যার ফলে দেশের গণ্ডি পার করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তৈরি হবে সেরা ক্রিকেটার, ফুটবলার, লাঠি খেলোয়াড়, কাবাডি খেলোয়াড়, দাবা খেলোয়াড়, হকি খেলোয়াড়সহ আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়। জাতীয় প্রতিযোগিতাসহ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা— অলিম্পিক গেমস, এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসে অসামান্য অবদান রাখতে পারবে। বিশ্বে বাংলাদেশের জয়ধ্বনির কলরব হবে। এমন একটি সোনালি দিনের অপেক্ষায় রইলাম। 

তাই আগামী দিনের সোনালি প্রাতের জন্য বর্তমান ধারা থেকে বের হতে হবে। এখনো যথেষ্ট সময় আছে বর্তমান এ ধারা থেকে বের হওয়ার। এ ধারা থেকে উত্তরণের পথ না বের হলে ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। তাই তো বলতে হয়—‘পরিকল্পিত উপায়ে খেলার মাঠ গড়ি, শিশুর মানসিক বিকাশের সুযোগ প্রদান করি, আদর্শ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ি’।

n লেখক :শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা