যেভাবে ট্রাম্প-রাশিয়া বিতর্কে জড়িয়েছেন এক মডেলকন্যা

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৫৪

একজন রুশ বিলিওনিয়ারের সাথে তার প্রমোদ তরীর পার্টিতে যোগ দিয়ে সেখানে মাত্র কয়েকটি দিন কাটিয়েছিলেন নাসতিয়া রিবকা এবং এই বিষয়টি গর্ব করে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেই ধনকুবের ব্যক্তি ছিলেন ওলেগ দেরিপাসকা, যিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ এবং একজন ক্ষমতাধর মিত্র। পরে এই মডেল দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের প্রমাণ আছে তার হাতে।

রিবকা জানান, অনেক দিন ধরেই তার ইচ্ছা ছিল দেরিপাসাকার প্রমোদ তরীতে যাওয়ার এবং ২০১৬ সালে সেই চাওয়া পূর্ণ হয়। কিন্তু এ নিয়ে মুখ খোলায় তার জীবনে দুঃখ ছাড়া আর কিছু মেলেনি। গত বছর এই ধনকুবেরসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। পরে দেখা যায়, তার সাথে পল ম্যানাফোর্টের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। পল ম্যানাফোর্ট ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবিরের সাবেক চেয়ারম্যান। রিবকা বলেন, ‘তাকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে, আমার ধারণা আমিই সেসব সমস্যার শুরু করেছি।’ খবর বিবিসি বাংলা

রিবকা ২০১৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ডে গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পরপরই রিবকা ভেবেছিলেন আমেরিকানরা তাকে সাহায্য করতে পারে। পুলিশ ভ্যানে করা একটি ভিডিও মার্কিন গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে ইনস্টগ্রামে পোস্ট করেন তিনি। তিনি জানান, রুশ স্থাপনা, পল ম্যানাফোর্ট এবং ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন বিষয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে।

এক সময় আমেরিকানদের কাছে সহায়তা চাইলেও এখন তিনি বলছেন, তাকে কারাবন্দি করার জন্য আমেরিকানরাই দায়ী। তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা হয়তো ভয় পেয়েছিল, তাদের নতুন প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে আমি হয়তো কিছু জানি। এফবিআই আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমার কাছে  ট্রাম্প, ম্যানাফোর্ট, দেরিপাসকার সম্পর্কে কী তথ্য আছে।’

চলতি বছরের ১৭ই জানুয়ারি তার সাজার স্থগিতাদেশ আসে এবং তাদেরকে থাইল্যান্ড থেকে নির্বাসিত করা হয়। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। দুই দিন পর তিরি রুশ হেফাজত থেকে মুক্তি পান। তবে মুক্তির জন্য কারো সাথে কোনো আপোষ রফার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি। তার কাছে আসলে কী তথ্য ছিল বা আদৌ কোনো তথ্য আছে কি-না, সেটা অবশ্য এখনো জানাননি এই মডেল।