আল জাজিরা
গত মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পর আইভরিকোস্টের সাবেক প্রেসিডেন্ট লরেন্ট গাবাগোকে শর্তাধীন মুক্তির আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট গাবাগো ও তার সহযোগী চার্লস বেল গাউদ আপিলের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় একটি ‘অনির্দিষ্ট দেশে’ বসবাসের শর্তে শুক্রবার বিচারকরা এ আদেশ দেন।
অবশ্য আপিল বিভাগের বিচারপতি চিলি ইয়োব-ওসুুজি বলেন, আইভোরিকোস্ট যদি তাকে গ্রহণ করতে রাজি হয় এবং আদালতের নির্ধারিত শর্ত প্রয়োগ করতে আগ্রহী হয়ে থাকে— তাহলে আদালত তাদের মুক্তি দেবে। আইভরিকোস্ট আইসিসি’র একটি সদস্য রাষ্ট্র। তবে গাবাগোকে নিজ দেশে পাঠাতে অনিচ্ছুক হতে পারে আদালত। এদিকে আইসিসি’র গ্রেফতারের আদেশ থাকলেও গাবাগোর স্ত্রী সিমোন আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করেছে।
২০১০ সালে দেশটির ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের পর গণহত্যা, ধর্ষণ, নিপীড়ন এবং অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের চার মামলায় গাবাগো ও গাউদকে বিচারের আওতায় আনা হয়। ২০১১ সাল থেকে গাবাগো এবং ২০১৪ সাল থেকে গাউদ আইসিসির হেফাজতে আছেন। এরপর ২০১৬ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গাবাগোর বিচার শুরু করে আইসিসি।
২০১০ সালের ১৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর সহিংসতায় আইভরিকোস্টে প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়। গাবাগোর সমর্থক ও প্রতিপক্ষরা প্রত্যাশা করেছে, এই বিচারের মধ্য দিয়ে সত্য উন্মোচিত হবে। এছাড়া সংকটের পেছনের কারণও হবে উন্মোচিত।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের নির্বাচনে প্রতিপক্ষ আলাসেন ওয়াতারার কাছে পরাজয়ের পর যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা ধরে রাখার পরিকল্পনা করেন গাবাগো। এর জের ধরে দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য আইভরিকোস্টে ২০১০ সালের নির্বাচনে ওয়াতারাকে জয়ী বলে স্বীকৃতি দেয় আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়। একপর্যায়ে জাতিসংঘ ও ফ্রান্সের বাহিনীর সহায়তায় ওয়াতারার সেনারা গাবাগোকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আইসিসি’র কাছে হস্তান্তর করা হয়।
