ভারতে করোনাকালে আশার আলো দেখাল কেরালা

আপডেট : ২০ জুন ২০২১, ২১:২৬

এম এ আলআমিন

 

ভারতে করোনার ছোবল ধীরে ধীরে সহনীয় পর্যায়ে আসছে। তবে পরিস্থিতি এখনো আশাব্যঞ্জক পর্যায়ে পৌঁছেনি। শনিবার দেশটিতে দৈনিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজারের ঘরে নেমে আসে। এদিন  দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয় ৬০ হাজার ৭৫৩ জন। ভারতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২ কোটি ৯৮ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে কেরালা রাজ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার এক দিনে ১ হাজার ৬৪৭ জনের মৃত্যুর খবর দেয়। এই নিয়ে করোনায় মোট প্রাণহানি ৩ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৭ জনে পৌঁছায়। দেশটিতে প্রতিদিন যত লোক আক্রান্ত হয় তারচেয়ে বেশিসংখ্যক আক্রান্ত সেরে ওঠে। এর ফলে দেশটিতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। এখন দেশটিতে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৭ লাখ ৬০ হাজার ১৯ জন। টানা ৭৪ দিন পর কমে আসে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় সক্রিয় রোগী পৌঁছে যায় ৩৭ লাখের ওপরে। সেখান থেকে কমতে কমতে এই সংখ্যায় নেমে এসেছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের পর পর দুটি ঢেউ মোকাবিলায় ভারতে সবচেয়ে সাফল্যের পরিচয় দেয় কেরালা রাজ্য। এটি দেশটির একমাত্র রাজ্য যেখানে আন্তর্জাতিক সতর্কবাণী গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিষয়েও আগে থেকে গোটা বিশ্বকে সতর্ক করেন বিজ্ঞানীরা। কেন্দ্রীয় সরকার সেই সতর্কতাকে ততটা গুরুত্ব দেয়নি। কুম্ভমেলায় লাখ লাখ মানুষের জমায়েতের ফলে সংক্রমণ বাড়ে। কয়েকটি রাজ্যে ভোটের জন্যও দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপদ বাড়ে। এই পর্যায়েও ব্যতিক্রমী ভূমিকা রাখে কেরালার বাম সরকার। নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভেতরেও নিরলসভাবে কাজ করে কেরালা সরকার। এই টিকা কার্যক্রম নিয়ে বিরোধীরাও কোনো দুর্নীতি বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেনি। আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসা কুড়ায় কেরালা সরকার।

পশ্চিমবঙ্গে যখন দীর্ঘ টালবাহনার পর দুটি পরীক্ষাই বাতিল হয়েছে, তখন নির্বাচনে জিতে কেরালা সরকারের দুটি পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়। ভোট, কোভিড কোনো কিছুর অজুহাতেই কেরালা সরকার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ভেতরে কোনো রকম অনিশ্চয়তা তৈরি করতে চাননি। ইতিমধ্যেই ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। কেরালায় পর পর দুটি নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক জোটের জেতার নজির ছিল না। একবার বামপন্থিদের নেতৃত্বধীন এলডিএফ জেতে তো পরের বছর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জিততো। প্রায় স্থায়ী হয়ে গিয়েছিল এই ব্যবস্থা। পরিস্থিতি পালটে যায় ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই। সেবার বাম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ জিতলো। মুখ্যমন্ত্রী হলেন সিপিআই (এম) এর পিনরাই বিজয়ন। ২০১৬ সালের নির্বাচনেও জিতলো এলডিএফই। পিনরাই বিজয়ন মুখ্যমন্ত্রী থাকেন। মুসলিমদের ভোট ২০১১ সালে এলডিএফ পেয়েছিল ২৬ শতাংশ। ২০১৬ সালে সেটি বেড়ে ৩৫ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২১ সালে সেটি হয়ছ ৩৯ শতাংশ। ২০১১ সালে বামপন্থিরা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ৩০ শতাংশ ভোট পায়, ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ৩৫ শতাংশ। এ বছর হয়েছে ৩৯ শতাংশ।