লকডাউনের পরও সীমান্ত জেলায় বাড়ছে মৃত্যু ও সংক্রমণ

আপডেট : ২০ জুন ২০২১, ২২:১৭

দেশের সীমান্তের জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছেই। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ২৮, রাজশাহী বিভাগে ১০, জয়পুরহাটে পাঁচ ও দিনাজপুরে তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজশাহীতে এক দিনেই সংক্রমণ বেড়েছে ১৬.৯৩ শতাংশ। এসব জেলায় ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিধিনিষেধ বা লকডাউন আরোপ করে এবং হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়িয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

খুলনা অফিস জানায়, খুলনা বিভাগে একদিন পর আবারও করোনা ভাইরাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে। বেড়েছে শনাক্তের সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ সাত জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে বিভাগে ৭৬৩ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ার সাত জন, খুলনার দুই জন, বাগেরহাটের দুই জন, সাতক্ষীরার দুই জন, যশোরের চার জন, নড়াইলের এক জন, মাগুরার এক জন, চুয়াডাঙ্গার পাঁচ জন এবং ঝিনাইদহের চার জন মারা গেছেন। এর আগে শনিবার বিভাগে সর্বোচ্চ ২২ জনের মৃত্যু হয়। আর বৃহস্পতিবার ১৮ জনের মৃত্যু হয়।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ২২৩ জন, ‘ কুষ্টিয়ায় ১৬৪, ঝিনাইদহে ৯০, যশোরে ৭৩, বাগেরহাটে ৬৮, চুয়াডাঙ্গায় ৬৮, নড়াইলে ৪৪, মেহেরপুরে ১৯ ও সাতক্ষীরায় ১৪ জন।

এদিকে খুলনা জেনারেল হাসপাতালকে ৭০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে। গতকাল এ হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে। খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ রোগী ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজশাহী স্টাফ রিপোর্টার জানান, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত চিকিত্সাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে চলতি মাসের ২০ দিনে এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেলেন ২০৩ জন। নতুন মৃতদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। এছাড়া রাজশাহীতে সাত, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক ও নওগাঁয় এক জন উপসর্গ নিয়ে মারা যান।

রাজশাহীতে সংক্রমণও বেড়েছে। গত শনিবার দুই ল্যাবে ৪১৫টি নমুনায় ১৯৫ জনের করোনা পজিটিভ হয়েছে। আগের দিনের চেয়ে সংক্রমণ বেড়েছে ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলে এ জেলায় করোনা শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এদিকে রামেক হাসপাতালে আরেকটি সাধারণ ওয়ার্ডকে (১৭ নম্বর) করোনা ইউনিটে রূপান্তরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ নিয়ে রামেক করোনা ইউনিটে শয্যার সংখ্যা বেড়ে হলো ৩৫৭টি।

হাসপাতালের পরিচালক আরো বলেন, রামেক হাসপাতালে ভর্তির জন্য আসা রোগীর ৫০ শতাংশই গ্রামের। নতুন হটস্পট রাজশাহীর পাঁচ উপজেলা। গোদাগাড়ী ও তানোর থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী আসছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে দুর্গাপুর, বাগমারা ও চারঘাটের রোগী। সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে বোয়ালিয়ার রোগী বেশি। এই মুহূর্তে রামেক হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধার জন্য বাড়তি সুবিধাসম্পন্ন জায়গা দরকার। কিন্তু সেটা হাসপাতালে নেই।

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহ জেলায় বেড়েছে করোনায় আক্রান্তের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন চার জন। মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা উপসর্গে এক জন মারা গেছেন।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, এই সীমান্ত জেলায় করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ জনের মৃত্যু ও ৪৬ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্বেগজনক হারে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চলমান বিধিনিষেধ আরো কড়াকড়ি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তবু সংক্রমণ কমছে না।

নড়াইল প্রতিনিধি জানান, সংক্রমণ দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় রবিবার রাত ১২টা থেকে নড়াইল জেলায় সাত দিনের কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় নড়াইলে ৪৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক নারীসহ আরো তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৮ জনের করোনা টেস্টে ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ৫০ শতাংশ। এদিকে বৃষ্টির মধ্যে চলছে তৃতীয় দফা লকডাউনের তৃতীয় দিন। লকডাউন ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষ হাটবাজারে ভিড় করছেন। স্বাস্থ্যবিধি কিছুতেই মানতে চাচ্ছেন না।

দিনাজপুর স্টাফ রিপোর্টার জানান, জেলায় আশঙ্কাজনকহারে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরে আরো তিন জনের মৃত্যু ঘটেছে এবং নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৫ জন। শনাক্তের হার ৪৭ দশমিক ১০ শতাংশ। এদিকে সদর উপজেলায় এক সপ্তাহের লকডাউন শুরু হলেও কমছে না সংক্রমণ। গতকাল জেলায় নতুন শনাক্ত ৬৫ জনের মধ্যে ৫৫ জনই এ উপজেলার।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাত্রাতিরিক্ত সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গতকাল রবিবার ৭ম দিনের মতো মাগুরা শহর ও মহম্মপুর উপজেলায় লকডাউন চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। জনগণকে সচেতন করতে চলছে মাইকিং।