ভাড়ায় চালিত বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর সময় আর বৃদ্ধি না করার আহ্বান জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ রোধ ও টেকসই পরিবেশ উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উত্পাদনে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ‘বিদ্যুত্ খাতে বরাদ্দ ও সংস্কার’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে গতকাল রবিবার এ আহ্বান জানানো হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দেশে বিদ্যুতের উত্পাদন পর্যাপ্ত। এখন গুণগত মানের দিকে নিজর দিতে হবে। এ জন্য সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিলেও বাজেটে তার প্রতিফলন হয়নি। তিনি আরো বলেন, উত্পাদন বাড়ছে, এটা ইতিবাচক; তবে লোডশেডিং এখনো হচ্ছে। তার মানে, দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সঞ্চালনব্যবস্থায় সংকট আছে। আগের বছরের তুলনায় আনুপাতিক হারে বরাদ্দ বাড়লেও মোট বাজেটে বিদ্যুত্ খাতে অংশ কমে গেছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বুয়েটের অধ্যাপক ম. তামিম দাবি করেন, অতিরিক্ত বিদ্যুত্ উত্পাদনের হিসাব আসলে কাগজে-কলমে। ৪ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুেকন্দ্র বসে আছে। দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করে এমন অনেক প্লান্টের অবস্থা খুবই খারাপ। আসলে উদ্বৃত্ত বিদ্যুত্ শুভংকরের ফাঁকি ছাড়া কিছু নয়। বিদ্যুত্ উত্পাদনের হিসাব অতিরঞ্জিত বলেও দাবি করেন তিনি। আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারসের সভাপতি ইমরান করিম ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন-ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব করেন।
সরকারি সংস্থা পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বিদ্যুত্ উত্পাদনের খরচ কমানো যায় কি না, সে বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি। একই সঙ্গে বিদ্যুত্ খাতের দক্ষতা ও গুণগত মান নিয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, নতুন কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা এই মুহূর্তে সরকারের নেই। প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুত্ উত্পাদনে এখন বরাদ্দ বেশি নয় এমন দাবি করে তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ বরাদ্দ দেওয়া হয় ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশনে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুেকন্দ্রগুলো আর অব্যাহত রাখা হবে না বলে জানান তিনি।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বিদ্যুতের গুণগত মানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। না হলে এর উত্পাদন খরচ বাড়বে। পরিবেশদূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজায়নের দিকে যেতে হবে। এ জন্য এসব খাতে বাজেট বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, দেশের ৯টি জায়গায় সোলার মেজারিং সেন্টার করা হয়েছে। বায়ুবিদ্যুতের সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন জ্বালানি খোঁজার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
