বর্ষার যেমন রুদ্ররূপ রয়েছে, তেমনি এর নান্দনিক রূপও মানুষকে আলোড়িত করে। ছায়ানটের শিল্পীরা গানে গানে বর্ষাকে নানা মাত্রায় তুলে ধরলেন শ্রোতা-দর্শকদের সামনে। করলেন বর্ষাবন্দনা। ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামালের ১১০তম জন্মবার্ষিকীতে অনলাইনে গানে, নাচে, কবিতাপাঠের মধ্য দিয়ে বর্ষা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছায়ানট।
ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুফিয়া কামালকে নিবেদিত ‘এসো শ্যামল সুন্দর, আনো তব তাপহরা তৃষাহরা সঙ্গসুধা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয় ছায়ানটের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে। এবাদুল হক সৈকতের সেতারের সুরে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
এরপর সুফিয়া কামালের মূল্যায়নধর্মী আলোচনা করেন তার মেয়ে ছায়ানটের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, সুফিয়া কামাল আত্মশক্তিতে পথচলায় বিশ্বাস করতেন। যত বাধাই আসুক, তাকে পরাজিত করে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলতেন। এর জন্য নারীদের যোগ্য হয়ে উঠতে হবে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। একটি লড়াই হচ্ছে নারীর নিজের জন্য, আরেকটি লড়াই হচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য। সুফিয়া কামাল নিজের জীবন দিয়ে নিজের নারীসত্তার বিকাশ ঘটিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। সুফিয়া কামালের জীবন একজন নারীর জন্য, দেশের সব আত্মসম্মানে বলিয়ান মানুষের জন্য পাথেয়।
কথন শেষে ‘এসো শ্যামলসুন্দর’ গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করে সুদেষ্ণা স্বয়ম্প্রভা। নাচ শেষে ‘আমি কী গান গাব যে’ শীর্ষক সংগীত পরিবেশন করেন এ টি এম জাহাঙ্গীর। অভয়া দত্তের কণ্ঠে গীত হয় ‘বন্ধু, রহো রহো সাথে’ শিরোনামের গান। ইরা বালা ও কৃষ্ণা রায় যুগল কণ্ঠে গেয়ে শোনান ‘বজ্রমানিক দিয়ে গাঁথা’ শীর্ষক সংগীত। ডালিয়া আহমেদ গেয়ে শোনান সুফিয়া কামালের লেখা গান ‘নব বরষার ঘন মেঘ আনে কী বারতা’। মহুয়া মঞ্জুরী সুনন্দার কণ্ঠে উচ্চারিত হয় ‘বধূয়া, নিদ নাহি আঁখিপাতে’।
