ইরানের সঙ্গে ছয় জাতির পরমাণু আলোচনা স্থগিত

আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ০০:১৮

ইরানের সঙ্গে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির পরমাণু আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি পুনরায় কার্যকর করার লক্ষ্যে ভিয়েনায় চলমান আলোচনাটি গতকাল রবিবার স্থগিত করা হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো অতিক্রমের জন্য পরামর্শ করবেন। এদিকে গতকালই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এ ব্যাপারে বিশ্বকে সতর্ক করেন। খবর রয়টার্সের

ভিয়েনায় ইরানের পক্ষে শীর্ষ সমঝোতাকারী আব্বাস আরাকচি বলেন, চুক্তির খুব কাছাকাছি আমরা। তারপরও আমাদের মধ্যে থাকা মতপার্থক্য অতিক্রম করে একটি চুক্তিতে পৌঁছা খুব সহজ কাজ নয়। তিনি আরো বলেন, ‘আজ (রবিবার) রাতেই আমরা ইরানে ফিরব।’ প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আলোচনা চলছিল। বৈঠকে উপস্থিত থাকা রাশিয়ার দূত জানিয়েছেন, আপাতত আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য কোনো তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ১০ দিনের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, রাইসি জনগণের ভোটে জিতেননি, তিনি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একক ভোটে জয় পেয়েছেন। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বেনেট বলেন, রাইসির নির্বাচনের দিকে বিশ্বকে তাকাতে হবে। পরমাণু চুক্তির বিষয়ে আলোচনার আগে বিশ্বকে আগে চিন্তা করতে হবে যে তার সঙ্গে আলোচনা করা যায় কি না। বেনেট বলেন, একজন নিষ্ঠুর মানুষের শাসনামলে ইরানের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকতে পারে না।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ইব্রাহিম রাইসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। যুক্তরাষ্ট্র এক বিবৃতিতে বলেছে, এটা দুঃখজনক যে ইরানিরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তার পরও ওয়াশিংটন পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে তেহরানের সঙ্গে পরোক্ষভাবে আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রাইসির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।