অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নে বিপন্ন হচ্ছে প্রাণ-প্রকৃতি

আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ০০:২১

সাম্প্রতিককালে মানব সভ্যতার উন্নয়নের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্রমাবনতি সব প্রাণের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার, পরিবেশ সম্পর্কিত অসচেতনতা, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও সুষ্ঠু নজরদারির অভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন নগর—গ্রামীণ ও আঞ্চলিক এলাকায় বিপন্ন হচ্ছে প্রাণ-প্রকৃতি এবং ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশকে ধ্বংস করে উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না, সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকলে ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা থাকলে পরিবেশ-প্রতিবেশকে সমুন্নত রেখে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২১ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বি.আই.পি.)-এর উদ্যোগে শনিবার অনলাইনে ‘বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধারে পরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি পরিকল্পনা সংলাপে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান উপস্থাপিত প্রতিবেদনে পরিবেশ দূষণের কারণগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে পানি, বায়ু, মাটি, শব্দ ও প্লাস্টিক দূষণের পেছনে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব, আবর্জনা ব্যবস্থাপনার অভাব, অনিয়ন্ত্রিত ইটিপি বিহীন কলকারখানা স্থাপন, অবৈধ ইটভাটার আধিক্যতা, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বিভিন্ন শিল্পকারখানা, ইটভাটা ও বিভিন্ন পণ্য উত্পাদনকারী কার্যক্রম পরিচালনা, বন উদ্যানের গাছ কেটে ফেলাসহ নানাবিধ পরিবেশগত বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন। পরিবেশ বিপর্যয় এবং নানাবিধ বিরূপ প্রভাবের প্রেক্ষাপটে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন পরিকল্পনা নীতিতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে বিআইপির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্তরিক সদিচ্ছা থাকলে বিদ্যমান পরিকল্পনা এবং আইন-নীতিমালার অনুসরণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়েই আমাদের ভৌত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব।