করোনার প্রভাবে সারা বিশ্বে বিনিয়োগের প্রবাহ কমে গেছে। জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২১ অনুযায়ী করোনার প্রভাবে গত বছর, অর্থাত্ ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই কমেছে ৩৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। গত এক দশকেরও বেশি সময় পর বৈশ্বিক এফডিআই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে। করোনার প্রভাবে সারা বিশ্বে বিনিয়োগে স্থবিরতা চলছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। আংকটাডের প্রতিবেদনটি আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বব্যাপী প্রকাশ করা হবে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালে বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ কমেছে ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আগের বছরও কমেছিল ২০ শতাংশের বেশি। গত বছর, অর্থাত্ ২০২০ সালে দেশে এফডিআই এসেছে ২৫৬ কোটি ডলারের সমপরিমাণ, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ২১ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৮৭ কোটি ডলার বা ২৪ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে দেশে রেকর্ড (৩৬১ কোটি ডলার) এফডিআই এসেছিল। সে বছর ঢাকা টোব্যাকো অধিগ্রহণের ফলে জাপানের বড় বিনিয়োগ দেশে আসে। এরপর দুই বছর করোনাকালে দেশে এফডিআই কমল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছিল। এতে করে নতুন বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। মূলত জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বেশি আসে এই সময়ে। তবে নতুন বিনিয়োগের তুলনায় পুনর্বিনিয়োগ এসেছে বেশি। প্রতিবেদন অনুযায়ী এফডিআই প্রবাহ কমলেও এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে কম্বোডিয়া (৩৬৩ কোটি ডলার)। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদশে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইথিওপিয়া, ২৪০ কোটি ডলার। আর চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে মোজাম্বিক ও মিয়ানমার।
