এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে দেশের কয়েকটি স্থানে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) সরবরাহ করা হয় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের। নিয়মিত এই পরীক্ষার্থীরা ২০১৯ সালের পরিবর্তে ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষা শেষে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। গতকাল বাংলা প্রথম প্রত্রের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যুরো, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-
বরিশাল: বাবুগঞ্জে চন্দ্রদ্বীপ স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে ৩০/৩৫ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আলোচিত বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণসহ দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রের নাম ছিল ‘টগর’। অন্যদিকে, অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্রের নাম ছিল “কামিনী”।
বকশীগঞ্জ (জামালপুর): বকশীগঞ্জে উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ভুল প্রশ্নপ্রত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। কেন্দ্র সচিব বকশীগঞ্জ উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, ভুলবশত ভিন্ন সিলেবাসের প্রশ্ন বিতরণ ও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা।
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ): পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের অডিটরিয়ামে ১২০ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে তারা দ্রুত ইউএনও’র বাসার সামনে হাজির হয়ে অবস্থান নেয়।
আটোয়ারী (পঞ্চগড়): আটোয়ারীর একটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের ঘটনা ঘটেছে। এতে পরীক্ষার্থীরা বিড়ম্বনায় পড়ে বলে অভিভাবকগণ অভিযোগ তুলেছেন।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জে এ. ভি. জে. এম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে কে.কে.গভ ইন্সটিটিউশন, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রামপাল এন বি এম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৯ জন পরীক্ষার্থী পুরাতন সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রামে কয়েকটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবদুল আজিজ ইত্তেফাককে বলেন, কেন্দ্র সচিবের ভুলে এই ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৬/৭টি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্ন বিতরণ করে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। এই ভুলের জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ): দৌলতপুর উপজেলায় ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী ভুল সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে তাদের জীবন এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। জানা গেছে, সচেতন ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত শিক্ষকদের ব্যাপারটা জানালেও তারা কোনো প্রকার আমলে নেয়নি।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল আচর্য প্রফুল্য চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠে ভুল প্রশ্ন দেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত প্রাপ্ত হলেন, কেন্দ্র সচিব সুখপদ বাইন, কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ও অফিস সহকারী ইয়াসিন আলী। ৩১ জন শিক্ষার্থীকে প্রথমে ভুল প্রশ্ন দেওয়া হয়। এক ঘণ্টা পরে জানাজানি হলে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে পরামর্শ ক্রমে তাদের পুনরায় নতুন খাতা ও ২০১৯ সালের প্রশ্ন দেওয়া হয়।
হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর): হাজীগঞ্জে প্রশ্নপত্র নিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় পড়েছে পরক্ষার্থীরা। তবে হল সচিবের দাবি এ ভুলটি করেছে হল পর্যবেক্ষকরা। বিষয়টি সাথে সাথেই সমাধান করা হয়েছে।
বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ): বাজিতপুর পৌর সদরের হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের রাজ্জাকুন্নেছা সরকারি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের ১ ও ২ নং কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ দুটি কক্ষে আফতাব উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ ও হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে কেন্দ্র সচিব ও হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি: পলাশবাড়ীর ফকিরহাট দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুরানো প্রশ্নপত্র দিয়ে ১১০জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং তাত্ক্ষণিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগে হল সুপার, তদারকি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবির ও এমরান ইসলামকেও পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল): প্রায় ২০ মিনিট লেখার পর ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহর বিষয়টি হল সুপার, কক্ষ পরিদর্শক ও কর্তৃপক্ষের নজরে এলে প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। ফলে পরীক্ষার্থীরা ভালোভাবে উত্তর দিতে না পেরে কয়েক শতাধিক পরীক্ষার্থী কান্নাকাটি করে হল থেকে বের হয়েছে।
