বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিঙ্ক বলেছেন, গত এক দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও প্রবৃদ্ধি ছিল অসাধারণ। এই অগ্রগতি ও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং ত্বরান্বিত করাই হবে নতুন সরকারের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যত্ সম্পর্ক নিয়ে আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। কসমস ফাউন্ডেশন আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী এবং স্বাগত বক্তব্য দেন কসমস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েতউল্লাহ খান।
রাষ্ট্রদূত তেরিঙ্ক বলেন, গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে ইইউ বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করে যেতে আগ্রহী। কারণ এটা ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। দারিদ্র্য দূর করতে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে সুষম বণ্টনের ওপর জোর দেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আমি কোনো নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরতে চাই না। বাংলাদেশের গল্প হলো সফলতার গল্প। তবে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ জরুরি। রপ্তানি বৃদ্ধি পণ্যে বৈচিত্র্যও আনতে হবে। রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে রাজনৈতিকভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি-প্লাস বাণিজ্য সুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধা পাবে না। এজন্য বাংলাদেশকে মানবাধিকার রক্ষা, পরিবেশগত ও সুশাসনের মান সমুন্নত রাখার ২৭টি মৌল কনভেনশনকে অনুসমর্থন, গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাংলাদেশকে কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা ও শ্রমিকদের সংগঠন করার স্বাধীনতা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কাজ করতে হবে। মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি বাংলাদেশ ও ইইউ’র সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইইউ’র উদ্বেগের কথা জানান। বিশেষ করে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তাদের অব্যাহত উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। তবে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে সমর্থন করে ইইউ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ইউরোপে অভিবাসনের ক্ষেত্রে শুধু অভিবাসী শর্ত পূরণ হলেই সেখানে অবস্থান করা সম্ভব, অন্য কোনোভাবে নয়।
পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, ইইউ’র সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই পরিপক্ব এবং গতিশীল। বাংলাদেশেও অনেক অবৈধ অভিবাসী বসবাস করছেন। বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে আমরা চাই না বিশ্বের কোনো দেশে বাংলাদেশিরা অবৈধভাবে অবস্থান করুক। আমরা অবৈধ অভিবাসনকে নিরুত্সাহিত করে আসছি। জিএসপি-প্লাস নিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা করার সময় এসেছে।
ড. ইফতেখার বলেন, বাংলাদেশের মতো অনেক দেশ ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাজ্যকে ইউরোপের প্রবেশদ্বার মনে করে। এখন আমাদের পুরো ইউরোপের ওপর জোর দেওয়া জরুরি। সংলাপে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিকসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
